পড়াশোনায় মনোযোগহীনতার সমস্যায় করণীয়

লিখেছেন: Muhammad Anwar Shah
গ্রুপে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারার রুকইয়াহ জানতে চেয়ে পোস্ট আসে প্রায়ই। আর যখন পোস্টগুলো এপ্রুভ করা হয় অসংখ্য কমেন্ট জমতে থাকে। আজও এমন একটি পোস্ট মুছে দিতে হলো। এই প্রেক্ষিতে দুটো কথা বলা দরকার মনে হচ্ছে।
রুকইয়াহ মূলত জ্বিন, যাদু, বদনজর, ওয়াসওয়াসা এসব সমস্যার জন্য ইসলাম সম্মত উপায়ে কুরাআন হাদিসের আয়াত, দুয়া পড়ে ঝাড়ফুক করার নাম। রাস্তাঘাটে কিছু কবিরাজের লিফলেট চোখে পড়ে যারা কিনা “সব সমস্যার সমাধান” করে দেয়। পড়ায় অমনোযোগ, প্রেমে ব্যর্থতা থেকে শুরু করে সবকিছুর নাকি তারা সমাধান দেয়। রুকইয়াহ সেরকম কিছু নয়।
তাহলে কী করণীয়?
পড়াশোনায় যদি মনোযোগহীনতা আসে তবে সবার আগে কারণ খুজে বের করতে হবে। কারণ যদি হয় মোবাইল আসক্তি, তাহলে প্রতিকার কী? প্রতিকার আপনিও জানেন। প্রতিকার হলো মোবাইল আসক্তি কমানো। প্রতিকার রুকইয়াহ করা নয়। একইভাবে কারণ যদি কোন বিয়ে বহির্ভুত রিলেশন হয় (যেটা কিনা গুনাহের কাজ) তবে প্রতিকার হবে সেই রিলেশন তাওবা করে ত্যাগ করা, ইস্তেগফার করতে থাকা। কারণ যদি কম ঘুমানো হয় তবে বাড়াতে হবে ঘুম। যদি পারিবারিক অশান্তি হয় তবে চেষ্টা করতে হবে সেই অশান্তি দূর করার।
হ্যাঁ, পড়ায় মনোযোগহীনতার বাহ্যত এমন কোন কারণই যদি পাওয়া না যায়, তাহলে চিন্তা করতে হবে কোন প্যারানরমাল কারণ আছে কিনা। হতে পারে কারো বদনজর লেগেছে। বিশেষ করে আগে বেশ মনযোগী ছিল, এখন মনোযোগ দিতেই পারছে না এমন হলে। সেক্ষেত্রে রুকইয়াহ করতে হবে বদনজর নষ্টের। বদনজরের রুকইয়াহ কিভাবে করবেন? পড়ুন এই লেখাটি https://ruqyahbd.org/blog/920/
আবার যাদুর জন্যও এমন হতে পারে। সেক্ষেত্রে শারিরিক মানসিক আরো অনেক ধরনের চেইঞ্জ আসে। লক্ষনগুলো চেক করে তবে তার জন্যও রুকইয়াহ করতে হবে। এই লিংকের লেখাটি পড়ুন https://ruqyahbd.org/blog/925
যদি বদনজর, যাদু ইত্যাদি কিছুই না হয়?
হ্যাঁ। হতে পারে বদনজরও নাই, যাদুও নাই, আবার বাহ্যিক কোন কারণও নেই। সেক্ষেত্রে পরামর্শ হবে আপনি পড়ায় বসার পর কিছুক্ষন দুরুদ শরিফ পড়বেন। আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রজিম পড়বেন। আর রব্বিশ রাহলি সদরি এই দুয়াটা পড়বেন। কিছুক্ষন কুরআনও তিলাওয়াত করতে পারেন। কেননা তিলাওয়াত অন্তরকে প্রশান্ত করে।
চেষ্টা করবেন মাথায় একটুও না ঢুকলেও পড়া সামনে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকতে। যে জিনিসগুলো আপনার মনোযোগ নষ্ট করে (যেমন মোবাইল) সেসব দূরে রেখেই পড়তে বসবেন। পড়ার টেবিলে বেশি জিনিস রাখবেন না। জাস্ট যেটা পড়বেন সেই বই, দরকারি নোট খাতা, কলম এসব রাখবেন। যত বেশি জিনিস সামনে রাখবেন তত মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হবে। একটানা এভাবে ১৫-২০ মিনিট বসে থাকুন জোর করেই। এরপরে খানিক্ষন বিরতি দিয়ে আবার পড়তে বসেন। আস্তে আস্তে এই সময়টা বাড়াতে থাকুন।
অনেক সময় একই সাবজেক্ট নিয়ে পড়ে থাকলেও বোরিং লাগতে শুরু করে যেটা মনোযোগহীনতা ঘটায়। এমন হলে ভিন্ন টপিকের কোন বই পড়তে পারেন অল্প সময়। এই ধরনের বিভিন্ন টিপস একটু খোজাখুজি করলেই পেতে পারেন, যেগুলো বেশ ফলদায়ক।
আশা করি, এই লেখাটি পড়ায় মনযোগহীনতার সমস্যা নিয়ে দেয়া সব পোস্টগুলোর উত্তর হিসেবে যথেষ্ট হবে। পরামর্শগুলো ফলো করলে ইনশা আল্লাহ সমস্যাটি অনেকটাই কমে যাবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের বুঝার তাওফিক দিন। সবাইকে সুস্থ ও নিরাপত্তার জীবন দান করুন। আমিন।

এই অংশটি লিখেছেন – Ahmad Robin

সাম্প্রতিক সময় কিছু বিষয় সামনে এসেছে যাতে করে আমার মনে হচ্ছে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে শয়তানের বিশেষ টিম মাঠে নেমেছে। একমাত্র উদ্দেশ্য মনে হচ্ছে তাদের পারিবারিক জীবনে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টির মাধ্যমে তাদেরকে দ্বীনের পথে চলা থেকে মাহরুম করে ফেলা। আল্লাহ চাইলে শয়তানের এই চক্রান্ত সফল হবে না।
আপনারা যারা মাদ্রাসায় পড়ছেন বা পড়াচ্ছেন, তাদের উচিত হেফাজতের আমলসমূহে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া। তাহলে ইন শা আল্লাহ শয়তানের চক্রান্ত থেকে হেফাজতে থাকতে পারবেন। পাশাপাশি আপনাদের পরিবারস্থ লোকদেরকেও ফরয ও মাসনুন আমলে মনোযোগী হতে বলবেন। পরিবারের কেউ শয়তানে আক্রান্ত হয়ে যেন আপনার মেহনতে ব্যাঘ্যাত সৃষ্টি না হয়। আপনার সহপাঠি/ওস্তাদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে রুকইয়াহর কথা বলবেন।

হেফাজতের বেসিক কিছু আমলের লিংকঃ https://ruqyahbd.org/blog/387

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + 4 =