সেলফ রুকইয়াহ গাইড (যাদু)

লিখেছেনঃ Rafael Hasan 

[ক]

যারা নিজেদেরকে যাদুগ্রস্থ মনে করছেন অথবা বুঝতে পারছেন না কিভাবে যাচাই করবেন আসলেই আপনি যাদুগ্রস্থ কিনা তাদের জন্য এই পোস্ট উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ। নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন আপনার সাথে কতগুলো লক্ষণ মিলেঃ

১। চোখের অবস্থা অস্বাভাবিক বা অসুন্দর লাগা।
২। কোন কারণ ছাড়াই শরীর গরম থাকা। 
৩। ব্যাকপেইন। বিশেষত মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা করা।
৪। (মহিলাদের ক্ষেত্রে) অনিয়মিত মাসিক (পুরুষদের ক্ষেত্রে) প্রস্রাবে ইনফেকশন এর সমস্যা।
৫। প্রায়সময় পেট ব্যথা থাকা। 
৬। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও কোন রোগ ভালো না হওয়া।
৭। তীব্র মাথা ব্যথা, ঔষধ খেয়েও তেমন লাভ হয়না।
৮। হঠাৎ করে কারো প্রতি তীব্র ঘৃণা বা তীব্র ভালোলাগা অনুভব হওয়া।
৯। পরিবার, বাসা, সমাজের প্রতি তীব্র বিতৃষ্ণা থাকা। 
১০। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত খুব অস্বস্তিতে ভুগা অথবা মেজাজ খারাপ থাকা।
১১। কোন কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে দৌড় দিয়ে বের হয়ে যেতে ইচ্ছা হওয়া। 
১২। শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া। 
১৩। ঠিকমত ঘুমাতে না পারা। ঘুমালেও ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা।
১৪। স্বপ্নে কোনো গাড়ি বা প্রাণিকে আক্রমণ করতে বা ধাওয়া করতে দেখা (যেমনঃ কুকুর, বিড়াল, গরু, মহিষ, বাঘ, সিংহ, সাপ)। 
১৫। স্বপ্নে কোন ফাঁকা বাড়ি, মরুভূমি বা গোরস্থানে হাঁটাচলা করতে দেখা। 
১৬। স্বপ্নে বিভিন্ন যায়গায় পানি দেখা (যেমন সাগর, নদী, পুকুর, ইত্যাদি)। 
১৭। স্বপ্নে ঘনঘন কোথাও আগুন জ্বলতে বা কিছু পোড়াতে দেখা।
১৮। স্বপ্নে নিজেকে উড়তে দেখা বা কোন পাখি অথবা বড়বড় গাছ দেখা।

[খ]

এসব লক্ষণ যদি দুই একটা মিলে যায় তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার রুকইয়াহ করা লাগবেনা। ফরজ কাজগুলোর পাশাপাশি নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা এবং ঘুমানোর আগের মাসনুন আমল এবং বেশি বেশি দোয়া করলেই যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ।

মাসনুন আমল সম্পর্কে এখানে দেখুন- 

[গ]

এসব লক্ষণ যদি ৫ টা বা তারও বেশি মিলে যায় তাহলে আপনার উচিত রুকইয়াহ তিলাওয়াত শুনে টেস্ট করা। ডাউনলোড পেইজে গিয়ে “বিভিন্ন ক্বারিদের সাধারণ রুকইয়াহ” শিরোনামে যেকোন অডিও শুনে টেস্ট করতে পারেন।

এক্ষেত্রে শাইখ সুদাইস(১১ নাম্বার), এবং শাইখ লুহাইদানের (২০ নাম্বার) অডিও শুনতে পারেন। গায়ে বা ঘরে তাবিজ থাকলে, সেটা খুলে নষ্ট করে তাওবা করার পর রুকইয়াহ শুনবেন।

তাবিজ নষ্ট করার জন্য এই লিংক ফলো করবেন । 

যাদুর সমস্যা থাকলে রুকইয়াহ অডিও শুনে বেশকিছু প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন- বমি হওয়া অথবা বমি বমি ভাব হওয়া, পেটে অথবা ঘারে অথবা মাথায় তীব্র ব্যথা হওয়া, কান্না পাওয়া ইত্যাদি। রুকইয়াহ শুনে যদি এরকম যেকোন প্রতিক্রিয়া হয় তাহলে আপনার উচিত অন্তত দুই সপ্তাহ যাদুর রুকইয়াহ করা।

যাদু বা সিহরের রুকইয়াহ 

দুই সপ্তাহ করে পুরোপুরি ভালো না হলে প্রয়োজনে তিন সপ্তাহ করতে পারেন। দুই বা তিন সপ্তাহ করে গ্রুপে নতুন পোস্ট দিয়ে আপনার আপডেট জানাতে পারেন।

[ঘ]

উপরে উল্লেখিত যাদুগ্রস্থ হওয়ার লক্ষনগুলোর সাথে যদি আপনার জ্বিন সংক্রান্ত সমস্যা থাকে তাহলে রুকইয়াহ শুরুর পূর্বে এডমিনদের পরামর্শ নিবেন।

জ্বিন সংক্রান্ত সমস্যার লক্ষন 

এখান থেকে যদি ৩-৪ টা মিলে তাহলে ইনশাআল্লাহ সিহরের রুকইয়াহ করতে কোন অসুবিধা নেই। তারও বেশি লক্ষণ মিলে গেলে সিহরের পোস্টে বলা নিয়মে রুকইয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন একঘন্টা আয়াতুল কুরসির অডিও শুনবেন। আর প্রায় সব লক্ষণ মিলে গেলে অবশ্যই এডমিন ভাইদের পরামর্শ নিবেন।

[ঙ]

নোটঃ
১। মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হলেও রুকইয়াহ করতে পারবে। গোসলের পানি অন্য কেউ পড়ে দিবে।
২। একজন পানি তৈরি করে দিলে অন্য জন গোসল করতে পারবে।
৩। রুকইয়াহ শুরু করলে প্রথমদিকে শরীর খারাপ করতে পারে। তখন বন্ধ করা যাবে না। ধৈর্য্য ধরে রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে হবে। ইনশা আল্লাহ সাফল্য আসবে।
৪। গায়ে/ঘরে কোন তাবিজ থাকলে অবশ্যই নষ্ট করে ফেলতে হবে আগে। কোন মূর্তি, পুতুল, ছবি ইত্যাদি থাকলে সরিয়ে ফেলতে হবে। ঘরে কুকুর থাকা চলবে না।

তাবিজ নষ্টের জন্য

পুরো লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। একবার না বুঝলে কয়েকবার পড়ুন। আল্লাহ চায়তো এরপর নিজেই সিহরের রুকইয়াহ করতে পারবেন। কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে না, বরং অন্যদেরও পরামর্শ দিতে পারবেন। তবে আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

আল্লাহ আপনাকে এমন আরোগ্য দান করুন যাতে আর কোন রোগ বাকি না থাকে। আমীন।

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ninety − eighty nine =