রুকইয়া বিষয়ে সংক্ষেপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা

দুইটা বিষয়ে এর আগে কয়েকবার সাবধান করেছি, আজ আবার পরিষ্কার ভাষায় বলছি-

১। ইউটিউব থেকে ইচ্ছামত রুকইয়া শুনবেন না, অনেকগুলো খারাপ রিপোর্ট এসেছে। সেজন্য আগেই সাবধান করছি, পরে দুর্ঘটনা হলে কান্নাকাটি করে লাভ নাই।

২। জ্বিনের সমস্যার জন্য যদি আপনি রুকইয়া শুনে থাকেন তবে এই মুহুর্তেই বন্ধ করুন! জ্বিনের সমস্যায় সরাসরি ট্রিটমেন্ট না করে, শুধু রুকইয়া শুনলে সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

You have been warned!

লক্ষণীয়ঃ আমি রুকইয়া শুনতে নিষেধ করিনি, বরং জ্বিনের সমস্যার জন্য শুনতে মানা করছি। ভুল বুঝবেন না প্লিজ!

কদিন থেকে প্যারানরমাল টিপসের একটা পোস্ট প্রচুর কপি-পেস্ট হচ্ছে, সেটার শুরুটা এরকম- “রাতের বেলা কেউ আপনাকে ফলো করছে মনে হলে পেছনে তাকাবেন না, ঘাড় মটকে দিতে পারে.. ব্লা ব্লা..” অনেকে ইনবক্সে লেখাটি দিয়ে মতামত জানতে চেয়েছেন, অহংকার করছি না.. আমার মতামতও মানুষ জানতে চায় ব্যাপারটা ভেবে মজাই পেয়েছি! যাহোক, লেখাটির ব্যাপারে আমার মন্তব্য এরকমঃ

১। হামবড়া ভাবওয়ালা কোনো লেখকের লেখাই আমার পছন্দ না। নিজেকে ‘আপার লেভেলের’ লোক ভাবে, অন্যের সাথে এরকম মুডে কথা বলে যেন সে ঈশ্বর বনে গেছে! এরকম লোকদের আমি দুই চোক্ষে দেখতে পারিনা। তার লেখায় ভালো কিছু থাকুক বা না থাকুক! প্রেজেন্টেশন অনে-ক বড় একটা বিষয়!

প্রথমত: এজন্য ‘ওই’ লেখাটা আমার চরম অপছন্দের ঠেকেছে।

২। সম্ভবত কোনো চ্যাট গ্রুপে এব্যাপারে বললাম ‘ভাই দুনিয়াটা এত সোজা না’ জ্বিনভুতের গল্প লেখা আর এসব নিয়ে নাড়াচাড়া করার মাঝে বহুত ফারাক আছে। (একজন ভালো আলেম এবং একজন সাইক্রিয়েটিস্টের সাথে পরিচয় না থাকলে, প্যারানরমাল টপিকে আপনার আগ্রহ কমিয়ে ফেলা উচিত)

৩। শেষ কথা হচ্ছে, লেখাটা আমার ভালো লাগেনি। ইসলাম নিয়ে মন্তব্য করার আগে ভালোভাবে জেনে তারপর মন্তব্য করতে হয়। নিঃসন্দেহে ওই লেখায় বাড়াবাড়ি আছে, ভিত্তিহীন মনগড়া কথাবার্তা আছে। লেখাটায় যেভাবে চোখ বুজে দোয়াকালাম পড়ার কথা বলেছে তা আমার কাছে ‘ঠাট্টা অথবা বাচ্চামি’ মনে হয়েছে। রেটিং – ১/১০

অনেকে রুকইয়া বিষয়ে লেখা প্রথম সিরিজের লিংক চান, যেখানে আমি মুম্বাইয়ের একজন আলেমের লেকচার ভাবানুবাদ করেছিলাম।

আমি দুঃখিত, সেখানে বেশ কিছু অতিরঞ্জন ছিলো। এজন্য লেখাগুলো only me করে রাখতে বাধ্য হয়েছি। যারা লেখাগুলো কপি করেছেন, ডিলিট করে দিলে ভালো হয়। তবে বর্তমানে চলমান সিরিজ আলহামদুলিল্লাহ যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। (কিছুদিন পর আবার কন্টিনিউ হবে ইনশাআল্লাহ)

‘শুধু রুকইয়ার অডিও শুনেই যিন্দেগীর সকল মুশকিল আসান হয়ে যাবে’ এরকম ধারণা মাথায় থাকলে এখনি ঝেড়ে ফেলুন। বাস্তববাদী হউন। অনেক সমস্যার ক্ষেত্রে এটা সহজ একটা ট্রিটমেন্ট ঠিক আছে, তবে এটাই সব না।

‘সব কিছুর জন্য শুধু অডিও রুকইয়া শোনা যথেষ্ট না’ – এই কথাটা মাথায় ভালোভাবে গেঁথে নিন।

সেই বিখ্যাত আরবী প্রবচন স্মরণ করুন, জ্ঞানের তিনটি স্তর রয়েছে- প্রথম স্তরে মানুষ ভাবে সে সবকিছু জেনে ফেলেছে। দ্বিতীয় স্তরে উঠে বুঝতে পারে তাঁর অনেক কিছুই জানতে বাকি আছে। শেষ স্তরে পৌঁছে মানুষ উপলব্ধি করে- ‘সে তেমন কিছুই জানে না!’

শেষ কথা – ‘দুনিয়াটা এত সরল না, আল্লাহর ওপর ভরসা করুন আর ফ্যান্টাসি থেকে বের হয়ে বাস্তববাদী হোন..’
ওয়াসসালাম!

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifty four + = sixty three