প্রেম-ভালোবাসা প্রসঙ্গ এবং রুকইয়াহ!

লিখেছেনঃ উম্মে আব্দুল্লাহ

ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক সকল অবস্থাতেই বিবাহ বহির্ভূত প্রেম-ভালোবাসা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। কিন্তু শয়তানের ধোঁকায় পড়ে কিংবা না বুঝে অনেকেই এই হারাম কাজে জড়িয়ে পড়েন। আর এ থেকে বের হতে চাইলেও শয়তান নানা ধরনের ধোঁকায় ফেলে। যেমনঃ

  • আমি প্রেম করছি কিন্তু উদ্দেশ্য আমার সৎ। পরে বিয়ে করে ফেলবো।
  • আমরা কোন অশ্লীল কথা বলি না। বরং দ্বীন পালনে একে অপরকে সহায়তা করি।
  • একজন আরেকজনের সাপোর্টার। একজন না থাকলে আরেকজন ঠিকঠাকমত ইবাদাত করতে পারি না।
  • সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়..
  • আমি তো যিনা করছিনা। নিরাপদ দুরুত্ব বজায় রেখেছি। তাহলে এতে অন্তত গুনাহ হবেনা।

কিন্তু আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

وَلَا تَقْرَبُوا ٱلزِّنَىٰٓۖ إِنَّهُۥ كَانَ فَٰحِشَةً وَسَآءَ سَبِيلًا

আর যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ আর অতি জঘন্য পথ। (সুরা বনী ইসরাঈল- ৩২)

এখানে যিনা-ব্যভিচার করা তো দূরের কথা এর ধারে কাছেও যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সুতরাং আমরা যে যতই যুক্তি দেখাই সব কিছুর জন্য কুর’আনের এই একটি আয়াতই যথেষ্ট। এখানে আর কিছু বলার আছে বলে মনে হয় না। আর তাছাড়া আপনি যাই বলুন না কেন, হারামকে হালাল করতে পারবেন না। যা হারাম তা সকল অবস্থাতেই হারাম। আর ইবাদাত যদি আল্লাহর সন্তুষ্টিরর জন্য হয়, তাহলে এইসব লেইম এক্সকিউজের তো দরকারই পড়েনা।

অনেকে আবার বলেন সবই তো জানি, বুঝি কিন্তু এত ভালোবাসি যে ফিরে আসতে পারিনা। তাহলে বলবো এইসব ভালোবাসার থেকে আমার রবের ভালোবাসা অনেকদামী। কুর’আনুল কারিমে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন:

আর যারা বিশ্বাসী তাঁর আল্লাহকে অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালবাসে। (সুরা বাকারা-১৬৫)

তাঁর ভালোবাসার সামনে দুনিয়াবি এইসব নকল, নোংরা ভালোবাসার আদৌ কি কোন মুল্য আছে?? বরং এইটাতে শুধু মনের শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। অন্তর তাঁর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে যায়।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন- যে আমার স্মরন হতে মুখ ফিরাবে, তার জন্য রয়েছে সংকীর্ণ জীবন। (সুরা ত্বহা-১২৪)

বাস্তবে এর দ্বারা দুঃখ, যন্ত্রণা, অপমান, অশান্তি ছাড়া আদৌ কি কিছু পাওয়া যায়??

বরং হারাম সম্পর্কের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই বরবাদ হয়ে যায়। যারা না বুঝে এ ধরনের সম্পর্কে জড়িয়েছেন তারা কোন কিন্তু ছাড়াই এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন।  আর যারা এখনও এমন কিছু করেন নি, উনারা তাঁর কাছে শুকরিয়া আদায় করুন আর ভবিষ্যতে এমন নাফরমানি থেকে পানাহ চান। আর যাদের ব্রেকাপ হয়ে গেছে তারা আরো বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করুন। আপনার রব আপনাকে অনেক বেশি ভালোবাসেন বিধায় এই হারাম সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আর হ্যাঁ! ভুল করেছেন বলে নিরাশ হবেন না। খাস দিলে তওবা করুন। তওবাকারীকে আল্লাহ তা’আলা অধিক পছন্দ করেন। বিষয়টা এমনই!
সুতরাং চিন্তা কিসের?? রব্বুল আ’লামীনের ভালোবাসায় নিজেকে সিক্ত করার জন্য নিজেকে সংশোধন করে ফেলুন।

এখন কথা হচ্ছে অনেকেই এই হারাম সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চান কিন্তু পেরে উঠেন না তাই আমল চান। তাদের জন্য আমল না এক্ষেত্রে আপনার ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন। হতাশ না হয়ে চেষ্টা করেন সফল আপনি হবেনই ইনশাআল্লাহ।

এজন্য কিছু টিপস ফলো করতে পারেন যা আপনার জন্য সহায়ক ভুমিকা পালন করবে আশা রাখি:

সবথেকে উত্তম পন্থা হচ্ছে বিয়ে করে নেয়া। পরিবারকে বুঝান সব রকমভাবে। কারন বিয়েই হচ্ছে এই হারাম রিলেশন থেকে বাঁচার উত্তম উপায়। মনে রাখবেন আপনি যা করছেন তা আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য করছেন। তাই কে কি করছে, কে কি বলবে তা নিয়ে চিন্তা না করে রবের উপর তাওয়াক্কুল করে বিয়ের ব্যাপারে ফিকির করুন। পরিবারকে বুঝান। আর যদি না পারেন। তাহলে তাঁর কাছে একদম দিল থেকে বারবার সাহায্য চান। ইস্তিখারা করুন। আর এই কাজগুলো অবশ্যই তার সকল হারাম সম্পর্ক ছিন্ন করে তওবা করে করবেন। অনেকে আবার ভালোবাসার মান রাখতে গিয়ে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন, পরবর্তীতে আরো ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। তাই যাই করুন না চিন্তা -ভাবনা, আর তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে (ইস্তিখারা) করে করুন।

আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে প্রথমেই তার সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করুন। তার দেয়া গিফট বা এমন কিছু যা আপনাকে তার কথা মনে করিয়ে দিবে সেসব জিনিস সরিয়ে ফেলুন। তার টেক্সট, ফোন নং, ছবি বা পছন্দের কিছু থাকলে সেগুলোও ডিলিট করে দিন। আর ফেসবুকে থাকলে আনফ্রেন্ড না সরাসরি ব্লক করে দিন। এছাড়া যাদের সাথে মিশলে বা কথা বললে মনে পড়ার আশংকা আছে তাদের সাথেও দুরত্ব বজায় রেখে চলুন। আর মনটাকে বুঝিয়ে দিন আপনি আর এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চান না। আপনি পুনরায় এমন ভয়ংকর গুনাহ করতে চান না। এক্ষেত্রে শয়তান আপনাকে খোঁচাতে থাকবে নানাভাবে। কিন্তু আপনি এই ফাঁদে পা দিবেন না। মনে রাখবেন এইটাই আপনার রবের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার উপযুক্ত সময়।

এমন কোন স্থান যেখানে গেলে ‘দেখা হওয়া বা মনে পড়ার’ সম্ভাবনা আছে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। অনেকের আগে দুঃখ বিলাস টাইপ ভুত মাথায় চাপে। দয়া করে এটা করবেন না। অতীতের কিছু মনে করে মন খারাপ বা মন ভালো করার চেষ্টা করবেন না। আমি তো বলি জোর করে কিছু ভুলতে বা মনে করতে চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন, “Time is the best healer.”

সকল প্রকার প্রেমের উপন্যাস, কবিতা, কাহিনী, সিনেমা, নাটক, গান থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সম্পর্কিত যত পেইজে লাইক দেয়া আছে বা ফলো করেন সেগুলো আনফলো করে দিন। আর ইসলামিক পেজ, ইন্সপিরেশনাল পেইজগুলো এড করুন।

প্রেম-ভালোবাসার কুফল সম্পর্কে চিন্তা করুন। এর ফলে আশেপাশে, সমাজে যে ভয়ানক ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো স্মরণ করুন। আর আপনার অতীতের কথা মনে আসলে খারাপ সময়টার কথা স্মরণ করুন। আর নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করুন। তাদের ভালোবাসা, বিশ্বাসের কথা স্মরণ করুন।

এইগুলো তো গেলো দূরে যাওয়ার টিপস। এখন আপনি যদি বলেন এইগুলো সব আমি জানি এবং ফলো করা শুরু করেছি। এখন ভুলে যাওয়া বা এ থেকে দূরে থাকার জন্য কোন আমল, রুকইয়াহ বা দোয়া থাকলে বলেন, তাহলে বলবো, জ্বী, অবশ্যই চিকিৎসা আছে।

  • পাক পবিত্র হয়ে সম্ভব হলে ফরজ গোসল দিয়ে তওবার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করুন। পুর্বেকৃত গুনাহর জন্য তওবা করুন আর ভবিষ্যতে এ ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য চান। প্রতিদিন দুই রাকাত করে নফল নামাজ পড়ে আল্লাহ তা’আলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন সকল নাফরমানির কাজ থেকে বিরত থাকার তৌফিক দানের জন্য। আর হ্যাঁ তাহাজ্জুদে আল্লাহর সাথে প্রেমালাপ মিস করবেন না কিন্তু।।
  • কোন কিছুর সফলতার পেছনের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে দু’আ। রব্বুল আ’লামীনের কাছে বেশি থেকে বেশি দু’আ করুন। তাঁর সাথে সম্পর্কটা মজবুত করুন। তাঁর ভালোবাসায় নিজেকে সিক্ত করুন। দেখবেন তখন অন্তরে যেমন প্রশান্তি আসবে তেমনি অন্য কোন ভালোবাসার জন্যও মন কাঁদবেনা।
    বেশি বেশি যিকর করুন, কুর’আনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন, ফরজ ইবাদাতসহ নফল ইবাদাতও গুরুত্বের সাথে করুন, নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করুন।
  • নেক সহবত তৈরী করুন। যাদের সোহবত পাপের পথে ঠেলে দেয়, তাদের থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখুন। তাদের সাথেই বন্ধুত্ব স্থাপন করুন যারা আপনাকে আল্লাহ তা’আলার স্মরণ হতে গাফেল হতে দিবে না। বরং আপনাকে পাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে।
  • নফসকে দুর্বল করার উত্তম হাতিয়ার হচ্ছে রোজা। কাজা রোজা থাকলে সেগুলোর নিয়াতেও করতে পারেন। নাহলে নফল রোজাও করতে পারেন। রোজার ফায়দা জানা আছে তো!! (হাদিসে এসেছে, রোজা কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে)
  • বেশি বেশি করে মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, হাশর, জাহান্নামের আজাবের কথা স্মরণ করুন। যা আপনাকে পাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে। আর তারপরেও যদি মনে বাজে খেয়াল আসে তাহলে নিজেকে শাস্তি দিন।। (যেমনঃ ভারি কোন নফল ইবাদত আবশ্যক করে নিন)
  • কুর’আন-হাদিস অধ্যায়নে লেগে থাকেন। মাসনুন আমলসহ সকল কাজ গুরুত্বের সাথে করুন।সম্ভব হলে দ্বীনি সার্কেল, মজলিসে জুড়ুন।
  • সাথে ইস্তিখারাও করে যান। দেখবেন আল্লাহ তা’আলা উত্তমটার ফয়সালা করবেন, আর সবকিছু সহজ করে দিবেন।
  • বেশি বেশি করে এই দুয়া পাঠ করতে পারেন। আল্লাহ তা’আলা উত্তমটাই দান করবেন ইনশাআল্লাহ।

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ – اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا

উচ্চারণঃ ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি র-জিঊন। আল্লাহুম্মা’জুরনী ফী মুসীবাতী, ওয়া আখলিফলী খইরম্মিনহা-
অর্থঃ আমরা আল্লাহরই, এবং আমর তার কাছেই ফিরব। ও আল্লাহ! আমাকে বিপদের জন্য প্রতিদান দাও এবং এর বিপরীতে আমাকে এরচেয়ে উত্তমটা দান করো”।

  • সাথে সুরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াতটা বেশি বেশি পড়বেন।

ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻫَﺐْ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟِﻨَﺎ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺎﺗِﻦَﺍ ﻗُﺮَّﺓَ ﺃَﻋْﻴُﻦٍ ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨَﺎ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﺇِﻣَﺎﻣًﺎﻭ

উচ্চারণঃ রব্বানা হাবলানা মিন আঝওয়াজিনা ওয়া যুররিইয়াতিনা ক্বুররতা আ’ইউনিউ ওয়াজ’আলনা লিলমুত্তাক্বিনা ঈমামা।

  • এটিও পড়ুন মাঝেমাঝে –

اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ وَالْعَمَلَ الَّذِى يُبَلِّغُنِى حُبَّكَ اللَّهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ إِلَىَّ مِنْ نَفْسِى وَأَهْلِى وَمِنَ الْمَاءِ الْبَارِدِ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা হুব্বাক। ওয়া হুব্বা মান ইয়ুহিব্বুক। ওয়াল আমালাল্লাযী ইয়ুবাল্লিগুনী হুব্বাক। আল্লাহুম্মাজ’আল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়া মিন নাফসী ওয়া আহলী ওয়া মিনাল মা-ইল বারিদ’।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার ভালোবাসা চাই এবং আপনাকে যে ভালোবাসে তার ভালোবাসা চাই, আর সেই আমলের ভালবাসা চাই যে আমল আমাকে আপনার ভালোবাসার পাত্র করে দিবে। হে আল্লাহ আপনার ভালোবাসা আমার নিকট যেন আমার নিজের জীবন, পরিবার এবং শীতল পানি থেকেও প্রিয় হয়ে যায়। (তিরমিজী, হাদীস নং ৩৮২৮/৩৪৯০)
[এটা আতিক হুজুরের পোস্টে পেয়েছিলাম]

সবশেষে বলবো ইসলামকে জানার চেষ্টা করুন।

আপনার নামাজ, কুর’আন সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা খেয়াল করুন। নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন সাধ্যানুযায়ী। অবশ্যই তা উত্তম পন্থায়, উত্তম কাজে, গান, মুভি বা নাটক দিয়ে না। আর আপনি কিভাবে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে পারবেন। কোনটা আপনার জন্য উত্তম এবং সহজ হবে তা আপনিই ভালো বুঝবেন। তবে তার জন্য দরকার ইচ্ছাশক্তি আর রব্বুল আ’লামীনের কাছে পূর্ণ সমর্পণ।।।

আর এসবের পরেও যদি মনে আসে, কিন্তু তাঁর সন্তুষ্টির কথা ভেবে নিজেকে সংযত রাখেন। সেক্ষেত্রে গুনাহ নয় বরং সবরের সওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ। তাই নিরাশ না হয়ে, অজিফা না খুঁজে চেষ্টা করতে থাকুন।
সফল হবেনই ইনশাআল্লাহ।

এসবের পাশাপাশি প্রতিদিন রুকইয়াহ যিনা  এবং অন্তত ৫০০ বার করে ইস্তিগফার ফলপ্রসূ হবে ইনশাআল্লাহ।

রব্বুল আ’লামীন সকলকে হারাম থেকে বাঁচার তৌফিক দিন, এজন্য উত্তম বদলা দিন, আর উত্তম জীবনসঙ্গী মিলিয়ে দিন। (আমীন)

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twenty + = twenty eight