সুস্থতার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ, অনেক ফিতনার দরজা – রুকইয়ার সমস্যা সমগ্র ৭

[ক]
জিনজাদু বা ঝাড়ফুঁক সংক্রান্ত বিষয়ে অসংখ্য মানুষ ঈমান আমল নষ্ট করে “সুস্থতা লাভের তাড়না থেকে।”
রোগী চিন্তা করে, আমাকে যেকোনো মূল্যে সুস্থ হতে হবে। ফলে মসজিদে ইমাম সাহেবের পানিপড়া থেকে শুরু করে তান্ত্রিকের কুফরি কালাম পর্যন্ত কিছুই বাদ রাখে না।
আর ঝাড়ফুঁককারি চিন্তা করে, যে করেই হোক, রোগী সুস্থ হইসে এরকম রেজাল্ট দেখাতে হবে। ফলে আস্তে আস্তে ভালো-মন্দ যত রকমের তদবির আছে সবকিছুতে জড়িয়ে যায়।
মানে সমস্যার গোড়া এখানেই।
.
[খ]
ঝাড়ফুককারিরা ম্যালপ্র‍্যাক্টিসে জড়িয়ে ঈমান আমল হারানোর আরও কিছু কারন আছে। এসবও কিছুটা ওপরের বিষয় সংশ্লিষ্ট।
– একটা হল প্রচুর টাকা নেয়া, যেহেতু বিরাট অংক নিয়ে বসে আছে, সো একটা রেজাল্ট দেখাতেই হবে। এই তাড়না থেকে মন্দচর্চায় নামে।
– আরেকটা হল, দুনিয়ার সবার সেবা করার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেয়া। সবাইকে সার্ভিস দিতে গিয়ে সময় বাচাইতে চায়, ফলে তাড়াতাড়ি করতে চায়, শরঈ রুকইয়ায় যেহেতু তাড়াতাড়ি কোনো গ্যারান্টি নাই, ফলে আস্তে আস্তে সবরকম কাজে জড়িয়ে যায়।
– আরেকটা হল, রোগীর লাগানহীম চাহিদা পুরন করতে যাওয়া। শরিয়তের পছন্দ অনুযায়ী চাহিদায় বাধ না দেয়া। অনেকে নিজেই শরিয়ার মানসা বোঝে না, তাই সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে। ফলে আস্তে আস্তে বশিকরন হ্যানত্যান কাজে জড়িয়ে যায়।
.
এগুলো শয়তানের পায়ের ছাপ, অনুসরণ করতে করতে থাকলে সবকিছু গা সওয়া হয়ে যাবে। সবকিছু। তাই বারসিসার গল্পের পরিনতি হওয়ার আগেই প্রবৃত্তিতে বাধ দেয়া জরুরি।
.
[গ]
অনেক কবিরাজ আছে, যারা শুরুতে শুধু কোরআন বা দোয়া পড়ে পানি পড়া – তেল পড়া দিত। কেউ বাচ্চা নিয়ে আসলে এগুলা পড়েই ফু দিয়ে দিত। অন্য কিছু না। কিন্তু ফিতনায় জড়াতে জড়াতে এখন জাদুটোনা – কুফরি কালাম কিছুই বাদ রাখেনা।
এবং এদের কেউ কেউ নিজের মনকে প্রবোধ দেয়ার জন্য জিন সাধনা, জাদুচর্চা এবং অন্যান্য হারাম কাজগুলোর পক্ষেও কিছু দলিল বানিয়ে নেয়। ফলে এই দুষ্টচক্র থেকে কোনোকালেই সে বের হতে পারে না।

হাল জামানার রাক্বিদের এ থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।
.


[ঘ]
রুকইয়া শারইয়া শুরু করা রোগীর মানসিকতা এমন হওয়া উচিত- রোগের চিকিৎসা করা দরকার, তাই নিরাপদ সীমায় থেকে করতে থাকব। সুস্থতা দেয়ার মালিক আল্লাহ। আল্লাহ চাইলে সুস্থ হব, নইলে আখিরাতে প্রতিদান পাব।
.
আর রাকির মানসিকতা হওয়া উচিত- রোগীকে সুস্থ করা আমার কাজ না, আমি রোগীকে নিজে রুকইয়ার জন্য গাইড করতে পারি, আর বেশি হলে আমিও আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ঝাড়ফুঁক কিছুক্ষণ ঝাড়ফুঁক করে দিতে পারি। আমি শুধু রাস্তা দেখাবো। সুস্থতা আল্লাহর কাছে।
.
[ঙ]
কোনো রাকি বা কবিরাজ বা মুদাব্বির বা ঝাড়ফুককারি যদি ঈমান আমল বাচিয়ে চলতে চায় এরকম কাউকে “রোগী সুস্থ করে দেখানোর” চ্যালেঞ্জ করে, তবে তার উচিত নিজের এবং উক্ত রাকির ইমান বাচানোর জন্য দোয়া করা।
কেউ যদি মনে করে “রোগীকে সে সুস্থ করে” তবে সে সুরা ফাতিহা পড়ে ফু দিলেও সেটা শিরকি ঝাড়ফুক।
..
আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াতের ওপর রাখুক। নিরাপদ রাখুক। আমিন।

মন্তব্য করুন