আমাদের হুজুর কবিরাজি করে : দ্বীনি লিবাসে কুফরি জাদুচর্চা প্রসঙ্গে কিছু কথা…

– Ahmmad Robin
আগে লুকোছাপা করে এই বিষয়ে লেখা হলেও সরাসরি বলা উচিত। দিনেদিনে তাবিজ ছাড়া মানুষ পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আর যখন বলি, “নষ্ট করেন”, প্রায়ই উত্তর আসে, তাবিজ তো অমুক মাওলানা দিয়েছেন, মুফতি দিয়েছেন, মাদ্রাসার শিক্ষক দিয়েছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। (মনে মনে হয়ত বলে, আপনি ওদের থেকে বেশি বুঝেন? জ্বি না, তাদের থেকে বেশি অবশ্যই বুঝি না। তবে বেসিক কিছু জিনিস বুঝি। এই কারণেই বলি খোলেন, খুলে দেখেন। )
এমনই কয়েকটা ঘটনা আগে শেয়ার করি।
১। এক হাফেজ সাহেবের বাচ্চা অসুস্থ। রুকইয়াহ করবে। বললাম, তাবিজ খুলেন। খুলে না, কেন খুলে না? অমুক বড় মাদ্রাসার বড় হুজুর দিয়েছেন। বার বার বলার পর খুলেছে। ছবি দেখলাম তাবিজের। আরবী দুয়া ছিল মনে হয় আর ছক করা নকশা। বললাম, আপনিতো হাফেজ। এসব ব্যাপারে আমার থেকে ভাল আপনার জানার কথা। বলেন তো, তাবিজে এমন দুর্বোধ্য জিনিস থাকলে হবে? উনিও স্বীকার করলেন এটা। এরপর নষ্ট করলেন।
২। আমার পরিচিত এক দোকানে রুকইয়াহ সংক্রান্ত কিছু কাজ করতে গিয়েছিলাম। তো সেখানে যে ছেলেটা ছিল সে আবার মসজিদের খাদেম। মসজিদের ইমাম সাহেব তাবিজের ব্যবসা করেন। তো আমার কাছে শিরকি রুকইয়াহর লক্ষন গুলো দেখে সে বললো, আমাদের ইমাম সাহেবের সাথে এই এই বিষয়গুলো মিলে।
৩। আরেকজনের কথা বলি। তিনি হাফেজ, মসজিদের ইমাম। মাদ্রাসাও আছে। বিবাহিত। তার কাছে এক মেয়ে গিয়েছে প্রবলেম নিয়ে। এরপরের ঘটনা শুনে আমার যা মনে হয়েছে ঐ হাফেজে সাহেবের উদ্দেশ্য ছিল মেয়েটার সাথে একটা কেলেংকারি করা।
৪। আরেক বাসায় ইমাম সাহেব গেলেন এক বাচ্চাকে ঝাড়তে। গিয়ে হিন্দুদের মন্ত্র পড়া শুরু করলেন।
কতগুলো লিখবো? আপাতত এইগুলোই থাক। রুকইয়াহ ফিল্ডে বহুকাল ধরে তাদের এমন দৌরাত্ন চলে এসেছে। আর স্বভাবতই ভুক্তভোগী ও তার পরিবার মানসম্মানের ভয়ে, সুস্থতার আশায় চুপ করে থাকে।
আ’ওফ ইবনে মালিক রা. বলেছেন, “জাহেলিয়্যাতের সময় আমরা বিভিন্ন ঝাঁড়ফুক করতাম। একদিন রাসুলুল্লাহ ﷺ কে এব্যাপারে জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, ‘আমাকে তোমাদের রুকইয়াগুলো আমাকে দেখাও। এতে শিরক না থাকলে কোন সমস্যা নেই।’” [সহিহ মুসলিম, 5544]
এখানে প্রথমত লক্ষণীয়, ঝাড়ফুঁক – তাবিজ এসবে খারাপ কিছুর সম্ভাবনা থাকলে (অবশ্যই আছে), তাহলে আগে সেটা যাচাই করতে হবে। যেমনটা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “তোমাদের রুকইয়াগুলো আমাকে দেখাও”।
এছাড়া আল্লাহ তা’আলাও বলেছেন
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ جَآءَكُمۡ فَاسِقٌۢ بِنَبَاٍ فَتَبَیَّنُوۡۤا اَنۡ تُصِیۡبُوۡا قَوۡمًۢا بِجَهَالَةٍ فَتُصۡبِحُوۡا عَلٰی مَا فَعَلۡتُمۡ نٰدِمِیۡنَ
হে ঈমানদারগণ! যদি কোন ফাসিক তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখবে। তা না হলে তোমরা অজ্ঞতাবশত মানুষের ক্ষতি করে বসবে এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ করবে। (Al-Hujurat 49:6)
প্রথমতঃ যেহেতু এই যুগে বেশভূষা কিংবা পদবী দেখে বোঝার উপায় নাই, কে আল্লাহর কালাম লিখছে আর কে শয়তানের কালাম লিখেছে। আর যেহেতু অধিকাংশ তাবিজে নিশ্চিতভাবেই নিষিদ্ধ বিষয়াদি থাকে। তাই অবশ্যই সেটা যাচাই করতে হবে, ভেতরে কি আছে। নইলে অনেকেই আখিরাতে বিপদে পড়ে যাবে।
দ্বিতীয়তঃ যদি দেখার পর বোঝা যায় এখানে কি লেখা আছে, তাহলে আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে এখানে কোন শিরক-কুফর নেই, থাকার সম্ভাবনাও নেই। যেমন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এতে শিরক না থাকলে কোন সমস্যা নেই।”
এসব পড়ে আমাকে পিটাতে ইচ্ছে হচ্ছে? মনে হচ্ছে আমি হাফেজ, মাওলানা, মুফতির বিরুদ্ধে নেমেছি? মোটেও তা নয়, বরং আপনারা যেন হাফেজ, মাওলান, মুফতি শুনলেই ভক্তিতে গদ গদ হয়ে যা বলে তাই না করেন- সেটাই উদ্দেশ্য। রুকইয়াহ দিয়েছে, শরঈ রুকইয়াহ দিয়েছে নাকি শিরকি রুকইয়াহ দিয়েছে সেটা যেন ভেবে দেখেন, যাচাই করতে পারেন সেটাই উদ্দেশ্য।
যাচাই করতে এই লিংকটা কাজে আসবে ইন শা আল্লাহ bit.ly/ruqvskob
আরও কিছু বাস্তবতাঃ
১। কোনো মাদ্রাসায় তাবিজ লেখার উপর কোনো কোর্স নেই। কাজেই তারা এসব কোনো মাদ্রাসায় শিখে না। হয়ত ঘরে ছিল, রাস্তার পাশে বই বিক্রি হতে দেখেছে, কিনে এনে প্র্যাকটিস শুরু করেছে। হয়ত অন্য কারও থেকে শিখেছে।
২। বলবে, “এত বড় কুফুরি, এত শক্ত কুফুরি আমি কাটাতে পারবো না” ( আসল কথা হল তার কাছে যে শয়তান আছে এটা অত শক্তিশালি না )
৩। বলবে, “কুফুরি কাটাতে কুফুরি করা লাগবে” (আসল কথা হল রুকইয়াহ যে কুরআন দিয়ে করা যায় এটা সে জানেই না। অথবা জানলেও নিজের সাহস নেই করার। অথবা কুরআন দিয়ে কুফুরি কাটানো সম্ভব এটা বিশ্বাস করে না )
৪। বলবে, “রুকইয়াহ এমনি এমনি করা যায় না। কারও অনুমতি নেয়া লাগে।” (আসল কথা হল, রুকইয়াহ নিয়ে তার কোনো সঠিক আইডিয়া নেই। অথবা তার ব্যবসাতে ভাটা পড়েছে )
পরিশেষ বলবো, ইমাম সাহেব, মাওলানা সাহেব, অমুক-তমুক কেউই আপনার কবরে যাবে না। আচ্ছা আমার কথাও বিশ্বাস হচ্ছে না? ঠিক আছে, বিশ্বাস করার কোনো দরকার নেই। আপনি তাবিজ খুলে দেখেন ভিতরে কি? মুফতি সাহেব বলেছে কুরআনের তাবিজ, আসলেই তাই কিনা। তাদের মুখের কথা আর কাজের মধ্যে কত ব্যবধান এতক্ষনে বুঝতে পারার কথা।
আল্লাহ তৌফিক দিন। আমীন।

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

86 − = eighty two