এত কিছু করতে পারবো না, সহজ কিছু দিন

কারও কারও রুকইয়াহ অনুসরণ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। যেহেতু দিনের একটা উল্লেখ্যযোগ্য সময় (২-৪ ঘন্টা সাধারনত) এর পিছনে ব্যয় হয়। ব্যস্ততার মাঝে যাদের সময় ম্যানেজ করতে কষ্ট হচ্ছে তাদের জন্য কিছু পরামর্শ।
প্রথম কথা হল, এই পোস্টে যা যা করতে বলা হয়েছে সেগুলোকে রুকইয়াহ করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নিতে হবে। এরপর ইংশাআল্লাহ ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগোতে হবে। অনেকে এমন থাকতে পারেন যারা প্রথমেই তেলাওয়াত করা/অডিও শোনা, গোসল, পানি খাওয়া, তেল লাগানো ইত্যাদি করতে পারেন না বা করতে চান না। তাদের জন্য ছোট ছোট কিছু দুয়া/আমল এখানে দেয়া হল। এইগুলোর অভ্যাস করলে ইংশাআল্লাহ পরবর্তীতে পূর্ণ আমল করার তৌফিক হবে।
কি দিয়ে শুরু করবো- এর উত্তর বলিঃ
“বলুন, আমার পালনকর্তা পরওয়া করেন না যদি তোমরা তাঁকে না ডাক।” (সুরা ফুরকান-৭৭)
“তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব।” (সুরা মু’মিন-৬০)
এক লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ। আমার জন্য ইসলামের শারী‘আতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতে পারি। তিনি বললেনঃ সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা‘আলার যিকিরের দ্বারা সিক্ত থাকে।” (তিরমিজি)
তাহলে বোঝা গেল, যখন পেরেশানি জীবনকে আকড়ে ধরে, কিভাবে কোথা থেকে শুরু করবো বুঝতে কষ্ট হয় তখন আল্লাহর যিকর ও দুআ’ দিয়ে শুরু করা উচিত।
কাজেই আমার নাসিহাহ হবে নিচের কাজ গুলো করারঃ

১। হেফাজতের জন্য প্রতিদিন এই লিংকে দুয়াগুলো আমল করা- মাসনুন আমল: যাদু, জ্বিন এবং অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাচার উপায় : যাদুগ্রস্ত ১২

২। আইয়ুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুয়া যা তার রোগমুক্তির উপায় ছিল।
رَبِّ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
(সুরা আম্বিয়া-৮৩)

৩। ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুয়া। এই দুয়ার দ্বারা আল্লাহ তায়ালা বিশ্বাসীদের নিরাপত্তার শপথ করেছেন।
لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
(সুরা আম্বিয়া- ৮৭)

৪। উদ্বেগ, ডিপ্রেশন, অক্ষমতা, অলসতা থেকে মুক্তি পেতে নিচের দুআ’-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ ، وَالْحَزَنِ ، والْعَجْزِ ، والْكَسَلِ ، والْبُخْلِ ، والْجُبْنِ ، وضَلَعِ الدَّيْنِ ، وغَلَبَةِ الرِّجَالِ

উপরন্তু, এই দুআ’গুলো করার সময়, দুআ’র আদবের দিকে লক্ষ রেখে করতে হবে তাহলে ইংশাআল্লাহ দুআ’ কবুল হবে। সেজন্য নিচের পোস্ট দেখা যেতে পারে। – দুআ এবং রুকইয়াহ ; দোয়ার গুরুত্ব, আদব, কবুল হওয়ার উপায়
এগুলো করতে করতে একসময় আপনি তৈরি হয়ে যাবেন রুকইয়াহ করার জন্য। তখন আপনি রেগুলার কোনো রুকইয়াহ প্রোগ্রাম ফলো করতে পারেন।

[মুহাম্মাদ তিম হাম্বল হাফিজাল্লাহু’র লেখা অবলম্বনে]

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

− এক = চার