রুকইয়ার সমস্যা সমগ্র ২: কয়েকজনের জন্য একসাথে রুকইয়াহ করা

ক]
অনেক সময় রাকি একসাথে কয়েকজনকে রুকইয়াহ একসাথে করেন। কেউ কেউ এটাকে মাস এক্সোর্সিজম (mass exorcism) বা মাস রুকইয়া বলে। ইউটিউবের কোন কোন ভিডিওতে দেখা যায়, একটা রুম অথবা মসজিদ ভর্তি মানুষ বসে আছে, সামনে একজন রাকি দাঁড়িয়ে রুকইয়ার আয়াত পড়ছে। রোগীদের কেউ কেউ ঘুমাচ্ছে, কারও জিনের সমস্যা আছে সে লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে (চর্মোনাইয়ের জিকিরের মত!) কেউ শুয়ে তড়পাচ্ছে… ইত্যাদি ইত্যাদি। কেমন যেন এক বিভীষিকাময় অবস্থা।
খ্রিষ্টানদের চার্চগুলোতেও ওদের প্রিস্ট / পাদ্রি / ধর্মগুরুরা মাস এক্সোরসিজম করে, এক্ষেত্রে বিশপের থেকে স্পেশাল পারমিশন নিয়ে আসতে হয়।

[খ]
আমরা প্রথমে দেখি এমনটা কেন করে?
প্রথমতঃ অনেক রোগীর চাপ থাকলে, সেটা সামাল দিতে। অর্থাৎ একে একে রুকইয়াহ করার মত পর্যাপ্ত সময় রাকির হাতে নেই, কিংবা এই পরিমাণ রাকি নেই যে এতগুলো রোগীর রুকইয়াহ করবে। তাই…
দ্বিতীয়তঃ এমনিতেই ভাল্লাগতেসে না, মানে অবহেলা করে। কয়েকজনকে একসাথে বসিয়ে রুকইয়া করে বিদায় করে দিল। এরপর টাকা যা নেয়ার নিয়ে নিল…
তৃতীয়তঃ অজ্ঞতাপ্রসূত। (বিভিন্ন কিসিমের জাহালতের কারণে করতে পারে। জ্ঞানের সীমা আছে, জাহালতের তো কোন সীমা-পরিসীমা নাই…) যেমন: রুকইয়াহ তো করতেইসি, অমুককেও এখানে বসিয়ে দেই।
এছাড়াও এভাবে রুকইয়াহ করার আরেকটা কারন হতে পারে, অহংকার! মানুষকে দেখানো যে “আই অ্যাম বিরাট কুছ!”

[গ]
যে সমস্যাগুলো হয় বলি-
১. রুকইয়ার ক্ষেত্রে মনযোগ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি একাধিক রোগীকে রুকইয়াহ করতে গেলে একজনের যদি উল্টাপাল্ট ইফেক্ট হতে লেগে, তখন আরেকজন থেকে মনযোগ ছুটে যাবে। কয়েকজনের একসাথে প্রবলেম শুরু হলে বাজে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যায়।
দুজনের ঘটনা এমন শুনেছিলাম, দুজনেই জ্বিন+জাদুর রোগী ছিল, একসাথে রুকইয়া করা হত, তো কখনও কখনও একসাথে দুইজনের ওপর জিন চলে এসে ঝগড়াঝাঁটি গালিগালাজ শুরু করে দিত। আমি যখন এই দুইজনের রুকইয়াহ করেছি, যথেষ্ট ভোগান্তি হয়েছে। দুইজন একসাথে আমাকে আক্রমণ করতে উঠে চলে আসতো। পরে মনে হচ্ছিল এই সময়টা দুজনের আলাদা আলাদা করে রুকইয়া করলেই ভাল ছিল।
২. নিয়াত- এটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ চাবি। নির্দিষ্ট নিয়াতে রুকইয়াহ করলে ফায়দা বেশি হয়। এজন্য একাধিক নিয়াত ঢুকে গেলে ঝামেলা হয়। ফায়দা কমে যায়।
৩. অনেক সময় একজনের সমস্যা আরেকজনের মধ্যে ঢুকে যায়। বিশেষতঃ দুজনের কেউ যদি বদনজর কিংবা ওয়াসওয়াসা রোগী হয়ে থাকে।
একবার আমার এক রিলেটিভের জন্য রুকইয়াহ করছিলাম, তিলাওয়াতের মধ্যে মনে হল কি? আমারও তো একটু প্রবলেম হচ্ছে, একসাথে দুইজনের নিয়াত করি। একটু পর দেখি আমার সমস্যা উনার শুরু হয়েছে। অথচ আমারটা শারীরিক অসুস্থতা ছিল…
কোন ভাই যেন বললেন, এক বাচ্চার রুকইয়ার সময় উনার বাচ্চাও সাথে ছিল, উনি ভাবলেন একসাথে দুইজনের নিয়তে তিলাওয়াত করি। পরে উনার বাচ্চা অসুস্থ হয়ে গেছে…

[ঘ]
তাহলে আমাদের করণীয় কি?
একান্তই অপারগতা না থাকলে একাধিক রোগীর রুকইয়াহ একসাথে করবেন না।
আর তবুও পরিস্থিতি চলে আসে, তাহলে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন:
.
– যদি ছোটখাটো সমস্যা হয়, আর রোগীরা একই ফ্যামিলির হয়। তাহলে করতে পারেন।
যেমন, রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার দুই নাতির জন্য একসাথে রুকইয়াহ করেছিলেন বলে কয়েকটা হাদিসে পেয়েছি। (সহিহ-যয়িফ সবরকম সনদেই আছে)
– ফ্যামিলির সবার সমস্যা একসাথে ডায়াগনোসিস করতে চাচ্ছেন। কিংবা সমস্যা একটাই, সেটাতে পুরা ফ্যামিলি ভুগছে (যেমনঃ সুখ-স্বচ্ছলতায় নজর লেগেছে, কিংবা সবাইকে একসাথে যাদু করেছে, স্বামীস্ত্রী দুজনকে বিচ্ছেদের জন্য যাদু করেছে) এসব ক্ষেত্রে করতে পারেন।পরিবারের বিষয়গুলো আসলেই অন্যরকম…
– যদি কারও সেন্সিটিভিটি বেশি থাকে। বিশেষত যারা অনেক পুরাতন কিংবা বাজে ধরনের জাদুতে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে ভুলেও অন্য কারও সাথে রুকইয়াহ করা উচিত না।
– ওয়াসওয়াসা আর নজরের সমস্যা বেশি থাকলে কি হয় বললামই তো। এরকম ক্ষেত্রেও পারতপক্ষে না করা।
– আর নুরুদ্দিন ইন্দুনিসির মত ওইরকম সব মানুষরে একসাথে বসাইয়া মাইক দিয়ে …। ভাই!! এগুলা পাগলামি কইরেন না প্লিজ..।

ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ!

ইনশাআল্লাহ ক্রমশঃ

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twenty two + = twenty five