উপকারের আশায় বাড়িতে তিলাওয়াত ছেড়ে রাখেন?

[ক]
একটা কথা অনেককে বলতে শোনা যায়, ‘ভাই, বাড়িতে জিন ডিস্টার্ব করে’ কিংবা ‘ভাই, আমাদের এই এই সমস্যা হয়’ – এজন্য বাসায় সবসময় তিলাওয়াত চালু করে রাখি! কিন্তু লাভ হচ্ছে না।

এখানে কয়েকটা ভুল আছে –
১. কোরআন ছেড়ে রাখার জিনিস না, এটা তিলাওয়াত করা – শোনার জিনিস। বুঝার পরে আমল করার জিনিস।
একটা জিনিস তো স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে, যারা বাসায় সবসময় কোরআনের অডিও প্লে করছেন তারা কোরআনের দিকে মনযোগ দেন না। দিলে সারাদিনের অন্যান্য কাজ কখন করেন?
এভাবে কোরআন বাজতে থাকা, আর নিজনিজ কাজে ব্যস্ত থাকার মাধ্যমে কোরআনের প্রতি অবহেলা প্রকাশ পায়, এটা আদবের খিলাফ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা বলেছেন –
وَاِذَا قُرِیٴَ الۡقُرۡاٰنُ فَاسۡتَمِعُوۡا لَهٗ وَاَنۡصِتُوۡا لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
(অতএব) যখন কোরআন পাঠ করা হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং চুপ করে থাকবে, যাতে তোমরা অনুগ্রহ লাভ করতে পার। [Al-A’raf 7:204]

তাই আল্লাহর অনুগ্রহ পেতে চাইলে আমাদের করণীয় হবে, কোরআন তিলাওয়াত এর সময় যতদূর সম্ভব মনযোগ দিয়ে শোনা। অন্তত অন্য কাজে একদম ডুবে না যাওয়া, খেয়ালটা তিলাওয়াত এর দিকে রাখা উচিত।
.
[খ]
২. কোরআন সবসময় ছেড়ে রাখতে কোন অভিজ্ঞ আলেম কিংবা এই বিষয়ের বিজ্ঞ কেউ পরামর্শ দেয়নি বা দেয়না। এই ভাইয়েরা করণীয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা না করে, নিজের ধারনা থেকেই কাজটা করেছে।

৩. ব্যক্তিগতভাবে যাদের জিন-জাদুর সমস্যা আছে, তারাও যদি নিয়মমাফিক নির্দিষ্টভাবে রুকইয়াহ শোনা, তিলাওয়াত করা, যিকর করা বাদ দিয়ে – শুধু শুধু অডিও ছেড়ে রাখেন। তাহলে আস্তে আস্তে এসবের অনেকটাই শয়তানদের গা সওয়ার মত হয়ে যায়। পরে এই অবস্থা কাটিয়ে বের হওয়া একটা জটিল বিষয় হয়ে দাড়ায়। এটা আসলে খুবই দুঃখজনক একটা ব্যাপার।

এজন্য উচিত হবে, একটু সবরের সাথে এবিষয়ে আলেমদের প্রবন্ধ – ফাতওয়া – বই পড়া। কিংবা সরাসরি কারও থেকে পরামর্শ নেয়া, এরপর যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই কাজ করা।  নতুন রাক্বিদেরও উচিত হবে, নিজের ইচ্ছামত পরামর্শ দেয়ার চেয়ে সিনিয়র আলেমদের প্রসিদ্ধ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে পরামর্শ দেয়া, যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।

পড়তে পারেন –বাড়ি থেকে জ্বিন তাড়ানো, রাক্বির জন্য লক্ষণীয়, এবিষয়ক কিছু বই : জিনের স্পর্শ ৫ – সংশ্লিষ্ট আরও কিছু লেখা এই ব্লগেই পাবেন ইনশাআল্লাহ।)

….

[গ]

নোটঃ ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে দেখে একটা পয়েন্ট যোগ করতে বাধ্য হচ্ছি – ‘এই লেখায় অডিও তিলাওয়াত শোনার বিরোধিতা করা হয়নি, তিলাওয়াত শোনা মুস্তাহাব – এটা যেভাবেই শোনা হোক না কেন। আমরা বিরোধিতা করেছি – প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত ছেড়ে রেখে, সেটা না শুনে নিজ-নিজ কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়ে।’

শেষে একটা কথা মনে রাখবেন – “নিজের সমস্যার ব্যাপারে সঠিকভাবে নিয়াত করে, পূর্ণ আদবের সাথে মাত্র এক ঘন্টা তিলাওয়াত করা বা শোনা, হেলায় খেলায় সারাদিন অডিও ছেড়ে রাখার চেয়ে বহু বহু গুণে শ্রেয়।”

আল্লাহ যেন আমাদের ওপর হিদায়াত এবং অনুগ্রহ নাযিল করেন। আমিন।

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আশি তিন − 76 =