রুকইয়াহ অডিও নিয়ে যত কথা

পরিচয় 

রুকইয়াহ মূলত কি? ঝাড়ফুঁক তাইনা? রুকইয়ার অডিও হচ্ছে, সেটার রেকর্ডিং। ব্যাপারটা এমন না যে শুধু আমরা মুসলিমরাই কোরআনের আয়াত বা দোয়া সম্বলিত দিয়ে রুকইয়ার অডিও শুনি। বরং অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও এক্সোর্সিজমের অডিও ব্যবহার করে। বিখ্যাত একটি কমিকসের মূল চরিত্র থাকে খ্রিষ্টান এক্সোর্সিস্ট, ডেমোনোলিস্ট ব্লা-ব্লা-ব্লা.. সে একবার একটা জিন দ্বারা আক্রান্ত হয়। তখন একটা ক্যাসেট দিয়ে বলে- “এখানে ৫০টি ভাষায় এক্সোর্সিজম আছে” তবে জিন পজেশন তো? শেষমেশ সরাসরি রুকইয়া করেই বিদায় হয়!

এতো গেল খ্রিষ্টানদের গল্প, অনেকে ইউটিউব থেকে রুকইয়াহ শোনেন। ইউটিউবে বহু কিসিমের রুকইয়াহ আছে, মুসলমানদের রুকইয়া যেমন আছে শিয়াধর্ম বা অন্য বিদয়াতিদের শিরকি রুকইয়াও ইউটিউবে ভুরি ভুরি আছে। অধিকাংশ মানুষ যেহেতু এসবের অর্থ বুঝে না, সুতরাং আমি ইউটিউব থেকে ইচ্ছামত রুকইয়া শুনতে মানা করি।

রুকইয়ার অডিও শুনলেই কি যথেষ্ট?

না! অডিও হচ্ছে রুকইয়ার একটা সাপ্লিমেন্টারী। এটাই রুকইয়া না। বরং পাগলের মত শুধু অডিও শুনতে থাকলে “ফায়দা অনেক কম + কষ্ট অনেক বেশি” হয়।

তাহলে রুকইয়াহ অডিও কেন দরকার?

ক্ষেত্রবিশেষে অডিওর বিকল্প নেই। যেমন, মেয়েদের পিরিয়ডের সময়; তখন নিজে তিলাওয়াত করতে পারবে না, অন্যের পাশে বসে তিলাওয়াত করার মত মানুষ খুবই কম এই দুনিয়ায়। সুতরাং বেস্ট অপশন অডিও।

এছাড়া সবসময় তিলাওয়াত করা সম্ভব হয় না। যেমন, আমি গাড়িতে করে সফরে যাচ্ছি, অথবা অফিসে জব করছি, আমার রুকইয়া করা দরকার প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা, এক্ষেত্রেও অডিওর বিকল্প নেই।

ঘুমের সমস্যা! ঘুমের আগে এক ঘণ্টা ধরে লাইট জালিয়ে সুরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান, জিন তিলাওয়াত করা? বেশিরভাগের জন্যই সম্ভব না, অপশন ইজ অডিও!

জিনের সমস্যার জন্য সেলফ রুকইয়াহ করবেন, একটু পড়তে লাগলেই গলা চেপে ধরছে। উপায়? পড়তে থাকুন, বাধা দিলেই অডিও প্লে করুন!

আমি মনে করি এটা আমাদের জন্য একটা রহমত!

বিদ’আত হবে কি?

এটাকেই রুকইয়াহ মনে করলে বিদয়াত হতে পারে। বাদবাকি কোরআন তিলাওয়াত শোনার মত, এটাকে একটা তিলাওয়াত শোনার বা রুকইয়ার সহায়ক অংশ (সাপ্লিমেন্টারী) হিসেবে গণ্য করলে বিদ’আত হওয়ার কোন কারণ নেই।

অল্প কথায়, যতক্ষণ না প্রমাণ হচ্ছে মোবাইলে, পিসিতে, টিভিতে বা অন্যান্য ইলেকট্রিক ডিভাইসে কোরআন শোনা বিদ’আত, ততক্ষণ পর্যন্ত আমভাবে রুকইয়ার অডিওকে বিদয়াত বলা হাস্যকর এবং অনর্থক।

মোবাইলে কোরআন শুনলে সওয়াব হবে?

আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার অনেকগুলো সওয়াবের কাজ নিয়ে কথা বলছিলেন এক পর্যায়ে বললেন – “..আর তোমাদের নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও সদকাহ্।” সাহাবায়ে কিরাম তো অবাক! তারা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের কারো যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হল, আর স্ত্রীর সাথে সহবাস করলাম, তাতেও সওয়াব হবে?!!!! রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “কেন? সে যদি এই চাহিদা হারাম পন্থায় (যিনার মাধ্যমে) পূরণ করতো তবে কি তার গুনাহ হতো না?…” (সহিহ মুসলিম)

সুতরাং মোবাইলে গান বা অশ্লীল কিছু শুনলে বা দেখলে যদি গুনাহ হয়, তবে আপনি নিশ্চিত থাকুন, কোরআন শুনলে সওয়াবও হবে ইনশাআল্লাহ!

কোন অডিওটা সবচেয়ে ভালো?

আমি এখানে নির্দিষ্ট কোন অডিওকে সেরা ঘোষণা করতে চাচ্ছি না। তবে একটা উসুল বা মূলনীতি বলে দেই –

১. আপনার জন্য রুকইয়াহ করা হয়েছে, (নিজেই করেছেন বা অন্য কেউ) সেটার রেকর্ড যদি আপনি শোনেন – তবে ইনশাআল্লাহ সবচেয়ে বেশি উপকার হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বুধবার রাতে উম্মে আব্দুল্লাহর ওপর রুকইয়া করার অডিও রেকর্ডটা সে আজ শুনছিল, আল্লাহর রহমতে ভালো ইফেক্ট হয়েছে।

২. রুকইয়ার অডিও হিসেবেই যেটা রেকর্ড করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তালিমটিউবের বদনজর, সিহর এবং আয়াতুল হারকের অডিওগুলো। শাইখ লুহাইদান এবং খালিদ হিবশির অডিও। শাইখ মাজিদ আয-যামিল এবং শাইখ হাশিমির অডিও। এগুলোতে অন্য অডিওর চেয়ে তুলনামূলক বেশি ইফেক্ট হয়।

৩. এছাড়াও অন্যান্য সাধারণ কোরআন তিলাওয়াতের অডিও, যেসব রুকইয়ার নিয়াতে বিশেষভাবে রেকর্ড করা হয়নি, বরং স্বাভাবিক কোরআন তিলাওয়াত হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছায় সেগুলোতেও অনেক উপকার হয়। যেমন- সুরা তাগাবুনের অডিও, সুরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান, জিনের অডিও।

আবার মনে করিয়ে দেই, শুধুমাত্র রুকইয়ার অডিও মানেই রুকইয়াহ না। এটা একটা সহায়ক অংশ মাত্র।

আল্লাহ আমাদের রুকইয়ার অডিওর সদ্ব্যবহার করার তাওফিক দিক, আমিন!

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifty − = forty three