রুকইয়াহ, কবিরাজি এবং সুস্থতা নিয়ে কিছু কথা

– Ahmmad Robin

 

1

আপনি ছিলেন সুস্থ, স্বাভাবিক। এমনিতেই হয়ত বিয়ে হচ্ছিলো না। কয়েকবার এমন হবার পর স্বেচ্ছায় বা পরিবারের চাপে গেলে কবিরাজ/যাদুকরের কাছে “কিছু আছে নাকি” দেখতে/জানতে। খুবই সম্ভবনা আছে আপনি স্বীয় গর্দান জল্লাদের সামনে এগিয়ে দিলেন। সুস্থ আপনার পিছনে জ্বিন লাগিয়ে দেয়া হল, জাদু লাগিয়ে দেয়া হল। যার প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী।

কাজেই বিয়ে হোক বা না হোক, কবিরাজ/যাদুকর থেকে বাঁচুন। পরিবার যতই জোরাজুরি করুক যাবেন না, যাবেন না, যাবেন না!

2

“আমাদের” কোনো সেন্টার নেই। এমন কোনো সেন্টার নেই যেখানে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, মুহাম্মাদ আনোয়ার শাহ, রাফায়েল হাসান, ফরহাদ হোসাইন, তাশফিকুর রহমান, আহমাদ রবীন বসেন এবং পরামর্শ দেন ও রুকইয়াহ করে থাকেন।

আমার সীমিত জ্ঞান থেকে যতদূর জানি, রুকইয়াহ সাপোর্ট বিডি-ই একমাত্র গ্রুপ যেটা কোনো সেন্টারের প্রতিনিধিত্ব করে না।

স্বভাবতই আমাদের কাছে ইমার্জেন্সি কোনো হেল্প পাবেন না। কয়েকদিন আগে একটা কমেন্ট পড়েছিল, কোনো এক ব্যক্তির একসাথে তিনজন আত্মীয় মারা গিয়েছে। তিনি ধারনা করছেন জাদু করে মারা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন পোস্টে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কমেন্ট করেও কোনো হেল্প পান নি।

এই বিষয়গুলোতে আমাদের খারাপ লাগে। কিন্তু আমরা “দায়ী” নই। প্রচ্ছন্নভাবে “আপনারা হেল্প করলে হয়ত আমার আত্মীয়রা এভাবে প্রাণ হারাতো না”- বলাও ঠিক হবে না। আপনি/আপনারা যেসময়টা আরেকজনের পোস্টে কমেন্টের কাজে ব্যয় করেন সেই সময়টা যদি গ্রুপের এনাউন্সমেন্ট, ইন্ডেক্স, সেলফ রুকইয়াহ গাইড ঘাটতেন (লিংক কমেন্টে) তাহলে নিজেরাই শুরু করতে পারতেন। সহজ বাংলায় লেখা। দুর্বোধ্য কিছু নয়।

তাকদীরে মউত আছে তাই মৃত্যু হয়েছে। ফরয-মাসনুন আমল ঠিকমত করলে হয়ত জাদুতেই আক্রান্ত হত না।

কাজেই আমাদের উপর অভিমান রাখবেন না। আপনারা নিজেরা সচেতন, সচেষ্ট না হলে ঘরে ঘরে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জন্ম নিলেও কোনো লাভ হবে না।

আল্লাহই ভাল জানেন।

3

চিকিৎসক যখন বলবে আপনি সুস্থ তখন আপনি আস্থা রেখে আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন যে, আপনি সুস্থ। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত যদি আপনি নিজেই নেন তাহলে ভুল হবার সম্ভবনা বেশি। কারণ চিকিৎসাশাস্ত্রে আপনি বিশেষজ্ঞ নন।

রুকইয়াহর ক্ষেত্রেও একই কথা। আপনি সুস্থ হয়েছেন কি হননি এটা নির্ণয় করার ভার রুকইয়াহ স্পেশালিষ্টকে দিন। ডাক্তারের কাছে গেলে তো তবুও ফি লাগবে, এখানে সেটাও লাগবে না। কাজেই কয়েকদিন রুকইয়াহ করে হাওয়া হয়ে যাবেন না। খুবই সম্ভবনা আছে কয়েকদিন পরেই আবার ফিরে আসবেন। আর যদি না আসেন সেটা আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ। এই যে অনুগ্রহ পেয়েছেন এটা জানালেও আপনার থেকে আমরা ফি নিব না। বরং খুশি হব যে আমাদের এই যৎসামান্য মেহনত কাজে এসেছে কারও।

 

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + six =