ইউটিউব থেকে ইচ্ছামত রুকইয়াহ শোনার ব্যাপারে সতর্ক হোন

ইউটিউব থেকে ইচ্ছামত যেকোন রুকইয়াহ শুনবেন না। এতে অনেকরকমের সমস্যা হতে পারে।
ইউটিউবে যেমন রুকইয়াহ শারইয়্যাহ আছে, তেমন কুফরি-শিরকি রুকইয়াও আছে। সেগুলো শুনে আপনার উপকারের বদলে আরও ক্ষতি হবে। আপনি কান দিয়ে যা শুনছেন, চোখ দিয়ে যা দেখছেন, এর প্রভাব আপনার ওপর পড়ছে, সুতরাং খারাপ কোন জিনিস স্প্রিচ্যুয়াল ট্রিটমেন্ট ভেবে শোনার কারণে আপনার ঈমান-আমল ওপরেও এর বাজে প্রভাব পড়বে।
এরপর সাউন্ড ইফেক্ট, ইকো, হ্যানত্যান দিয়ে, এডিট করে চকচকে বানানো এমন কিছু রেকর্ড-ও আছে, যেসব আদতে বিশুদ্ধ কোরআন তিলাওয়াতের ব্যাপারে আপনার রুচি নষ্ট করে দিবে। পরে ইফেক্ট ছাড়া তারতীল – তাজবিদের সাথে তিলাওয়াত শুনলে আর ভাল লাগবে না।
কিছু ভিডিওর ওপর গাইরে মাহরামের ছবি দিয়ে ভিউয়ার বাড়ানো হয়েছে, যতক্ষণ সেদিকে তাকাবেন, আপনার গুনাহ হতে থাকবে। অনেকে তো কোরআন তিলাওয়াত এর সাথে হারাম এড দিয়ে ইনকামও করছে।
এগুলো ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
আবার কিছু এমন অডিও বা অডিওর কাটপিস আছে, যেগুলো আসলে নরমাল কোরআন তিলাওয়াত, একটা আকর্ষণীয় রুকইয়াহ – আমল রিলেটেড নাম দিয়ে রেখেছে। যাতে মানুষ বেশি দেখে। হয়তো ঘন্টার পর ঘন্টা সেই অডিও না শুনে যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে কিছুক্ষণ রুকইয়াহ করতেন, সেটাই বেশি ফায়দা হত।
.
বেশ আগের একটা ঘটনা, তখনও সম্ভবত আমাদের গ্রুপের ওয়েবসাইট – ইউটিউব চ্যানেল কিছুই হয়নি। অন্য ব্লগ – সাইটের লিংক দেয়া হত। একবার একজন ইনবক্সে জানালো রুকইয়াহ শুনে উপকার পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ ভাল কথা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোনটা শুনেছিলেন? দুইটা লিংক দিল। লিংকে (ইউটিউবে) গিয়ে দেখলাম সাদ আল গামিদির রুকইয়াহ। আচ্ছা। একই চ্যানেলের আরেকটা ভিডিও সাজেশনে আসলো। প্লে করলাম..
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলো, এরপর কি কি সব দুয়া বলছে, ব্যকগ্রাউন্ডে ইউটিউব চলছিলো। উচ্চারণ শুনেই কেমন লাগলো। আমি আবার শুরু থেকে প্লে করলাম.. দেখি সর্বনাশ! “আলীর কাছে সাহায্য চাচ্ছে.. ইমামতের ওসিলা দিয়ে! বেলায়েতের ওসিলা দিয়ে!!” কি আর বলব, শিয়াদের শিরকি কাজকারবার।
আমি বেশ অবাক হলাম, শিয়া কাফেরগুলাও রুকইয়া করে?
.
আরেকটা ঘটনা, ২০১৭তে প্রথম রুকইয়াহ সিরিজ চলাবস্থায় এক সিস্টার আমার পোস্টে কমেন্ট করলেন, উনারা স্বামীস্ত্রী একসাথে ইউটিউবে রুকইয়াহ শুনছিলেন.. হঠাৎ কি হলো! দুজন একজন আরেকজনের প্রতি চরম বিরক্তি ফিল করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ এই অবস্থা ছিলো। এরপর উনারা কিছুক্ষণ সুরা ফালাক নাস পড়লে আলহামদুলিল্লাহ অবস্থা স্বাভাবিক হয়।
তাই নিজে কি শুনছেন, পরিবারকে কি শোনাচ্ছেন, এব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।
.
শেষে আবারও বলছি, আপনাদের জন্য জোরালো পরামর্শ থাকবে.. আরবি না বুঝলে ইচ্ছামত যেকোনো রুকইয়াহ শুনবেন না। ইউটিউবের শিরোনাম দেখেই মুগ্ধ হয়ে কোন অডিওকে মহৌষধ ভাববেন না। একটু কষ্ট করে বিষয়টা নিয়ে পড়াশোনা করুন, প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের কাছে জিজ্ঞেস করুন। আলেমদের দেখিয়ে যাচাই করুন। এরপর আমল করুন।
মনে রাখবেন, বড় সফলতার জন্য সাধারণত কোন শর্টকাট থাকে না। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন। আমিন।

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

− two = six