রাকি সম্পর্কিত আলোচনা

লিখেছেনঃ  আহমাদ রবিন
▶ রাকি কি?/কে?

যে ব্যক্তি কোনো সুস্থ/অসুস্থ ব্যক্তির পাশে অবস্থান করে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন দুয়ার মাধ্যমে শরঈ ঝাড়ফুক তথা রুকইয়াহ করে থাকেন তাকে (সাধারণত) রাকি বলে। অসুস্থ ব্যক্তির উপর রুকইয়াহ করার সময় যদি জিন হাজির হয় তাহলে জিন তাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সকল শরঈ প্রক্রিয়া তিনি অবলম্বন করেন।
আমরা যখন বলি কোনো রাকির কাছে যান তখন এমন লোকদের কথাই বুঝিয়ে থাকি। তবে অনলাইনে বা অফলাইনে উপরোক্ত পদ্ধতিতে রুকইয়াহ করেন না, কিন্তু এমনিতে রুকইয়াহ বিষয়ে পরামর্শ/দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন এমন ব্যক্তিকেও রাকি বললে নাম্বার কাটা যাবে না।

▶  আমি কি রাকি হতে পারবো?
জ্বি, আপনি মুসলিম হলে পারবেন।

▶  আর কিছু লাগবে না?
• মূলত আপনার তাওহীদের জ্ঞান থাকতে হবে। আক্বিদা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারনা রাখতে হবে। এই দু’টো বিষয় যত ভাল জানবেন তত আপনার জন্য সহজ।
• কুরআন তেলাওয়াত সহিহ হতে হবে। কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে, দুয়ার মাধ্যমে তথা রুকইয়াহর মাধ্যমে বদনজর, জিন, জাদু সংক্রান্ত সমস্যা থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় মুক্তি পাওয়া সম্ভব এই ব্যাপারে ইয়াকিন থাকতে হবে।
• ফরজ ও মাসনুন আমল এবং হেফাজতের আমলগুলো গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে।
• দৈনন্দিক জীবনে যত বেশি সুন্নাহর উপর থাকতে পারবেন তত বেশি আল্লাহর থেকে সাহায্য পাবেন রাকি হিসেবে।
• জিন/জাদু, জিনদের অধিকার, জীবন-যাপন সম্পর্কে বেসিক ধারনা থাকতে হবে।
• কবীরা গুনাহতো বটেই, সগীরা গুনাহ থেকেও যথাসম্ভব বাঁচতে হবে। এই ফিল্ডে সবচাইতে বড় শত্রু এটাই।
• কমনসেন্স থাকতে হবে। যার কমনসেন্স যত ভাল হবে, উপস্থিত বুদ্ধি যত তীক্ষ্ণ হবে তারা এই ফিল্ডে ইংশাআল্লাহ ভাল করবেন।
• আলেম হলে ভাল, জরুরী না।
• বিবাহিত হলে ভাল, জরুরী না।

▶  রাকির আসলে কাজটা কি?
• আমার মত রাকির মূল কাজ হল, দ্বীনের দাওয়াহ। যিনি তার কাছে যাবেন তাকে দ্বীনের উপর উঠানো, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করাতে সচেষ্ট হওয়া। এটা করতে পারলে বাকি কাজ ইংশাআল্লাহ সহজ।
• এরপর রাকির কাজ হল, কেউ তার কাছে বদনজর, জিন, জাদু সংক্রান্ত বিষয়ে আসলে তাকে সুপরামর্শ দেয়া।
• জিনের আসরগ্রস্থ কেউ আসলে আল্লাহর হুকুমে জিন তাড়ানো।

▶  রাকিদের কাজের মধ্যে এত বৈচিত্র কেন?
বৈচিত্র সব জায়গাতেই আছে, শুধু রাকিদের মধ্যে নয়। এর মূল কারন আমার মতে, উসুল, উসুল বোঝা ও মানা। যেমন, দ্বীনের একটা উসুল হচ্ছে, প্রয়োজন অনেকসময় হারামকে হালাল করে দেয়। যেমন, মৃত পশুর গোশত ভক্ষন হারাম। কিন্তু জীবননাশের আশংকা থাকলে তা হালাল। এখন জীবন নাশের আশংকা বলতে কি বোঝানো হয়েছে, কতটুকু বোঝানো হয়েছে এটা শরীয়ত সংজ্ঞায়িত করেছে।
কোন রাকি একবার রুকইয়াহ করলে পরের ৭ দিন আর উক্ত ব্যক্তিকে করেন না, কেউ ১৫ দিনের মধ্যে করেন না, কেউ আবার পরের দিনই করেন। যিনি বিরতি দেন তারও যুক্তি আছে, যিনি দেন না তারও যুক্তি আছে। কোনটাকেই সরাসরি ভুল সাব্যস্ত করা সঠিক হবে না।
সর্বসাধারনের উচিত হল, বেসিক বিষয় ফলো করা। রুকইয়াহ সম্পর্কে জানা, রুকইয়াহর হুকুম সম্পর্কে জানা। আল্লাহ তায়ালা সবাইকেই জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন। সেটা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নেয়া।

▶  এত লেকচার না দিয়ে রাকির নাম ঠিকানা দিন।
এই লিংকে পাবেন। এই লিংক সময় সময় আপডেট করা হবে ইংশাআল্লাহ।  [দুঃখিতঃ ব্লগের জন্য লিংকটা সেন্সর করা হল!!]

 


আরও পড়ুনঃ রাক্বির জন্য লক্ষণীয়, এবিষয়ক কিছু বই, বাড়ি থেকে জ্বিন তাড়ানো : জিনের স্পর্শ ৫

আরও পড়ুনঃ Warning to the Ruqaa – রাকিদের জন্য সতর্কবার্তা 

মন্তব্য করুন