একটি ভুল ধারণা – রুকইয়াহর নিয়ম-কানুন কি খুবই কঠিন?

রুকইয়াহর নিয়ম কানুন কি খুবই স্ট্রিক্ট? যা বলা হয় তাই পয়েন্ট টু পয়েন্ট ফলো করা লাগে?
.
জ্বি না, আদতে ব্যাপারটা তা না। কবিরাজি আর রুকইয়াহর মধ্যে একটি বিশেষ পার্থক্য হল, কবিরাজিতে ফ্লেক্সিবিলিটি নেই যা রুকইয়াহতে আছে। কবিরাজিতে কবিরাজ আপনাকে অদ্ভুত সব শর্ত দিবে আর আপনাকে সেভাবেই ফলো করতে হবে। যদি বলে শনিবারে যেতে হবে তাহলে শনিবারেই যেতে হবে। শুক্রবার বা রবিবারে গেলে হবে না। কিন্তু রুকইয়াহর ক্ষেত্রে বিষয়গুলো এমন না। রুকইয়াহর জন্য কোনো শনি, রবিবার বা বিশেষ কোনো দিন নেই। যেকোনো দিন আপনার সুবিধামত সময়ে শুরু করতে পারবেন।
.
তবে অসুস্থদের সুবিধা বা আরামের কথা চিন্তা করে আমরা মাঝে মাঝে কিছু কথা বলি। যেমন, গোসলের আগে কুরআন তেলাওয়াত, অডিও শুনতে বলি। কারণ, তেলাওয়াত করলে, অডিও শুনলে অনেক সময় শরীর খারাপ লাগে, অস্বস্তি লাগে, জায়গায় জায়গায় ব্যথা হতে পারে ইত্যাদি। তখন গোসল করলে আরাম লাগে। মনে রাখতে হবে, তেলাওয়াত করার পর বা অডিও শোনার পর গোসল করা বাধ্যতামূলক নয়। গোসল করতে না পারলে পড়া পানি খান, অযু করে নিন। তাতেও ইন শা আল্লাহ খারাপ লাগা কমবে।
.
আবার ডিটক্সের (ruqyahbd.org/detox) পোস্টে লেখা সকালে উঠে গোসলের কথা। তাহলে কি ফজরের নামাযের আগেই গোসল করতে হবে? না, আপনার সুবিধামত করতে পারবেন। দুপুরে করলেও কোনো সমস্যা নেই। করলেই হল।
.
ফ্লেক্সিবিলিটি আছে। কাজেই এমন মনে করার কোনো কারণ নেই যে, সকালের গোসল দুপুরে করলে রুকইয়াহ হবে না। আবার প্রথম থেকে করা লাগবে। আগের গুলা সব বাতিল হয়ে যাবে না। নিশ্চিন্তে চালিয়ে যান ইন শা আল্লাহ।
.
রুকইয়াহ একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা, কোনো শিকল নয় যা আপনাকে পেচিয়ে ধরে আটকে রাখবে।

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

বিশ ছয় − = 18