রাত্রিতে জ্বিনের সমস্যা

[ক]
আজকে আলোচনার বিষয়টি একটু অস্বস্তিকর, তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক ভাই অথবা বোন সরাসরি জ্বিনের সমস্যা অথবা জ্বিন দিয়ে করা যাদুতে আক্রান্ত হওয়ার পর রাতে ফিজিক্যালি অথবা সেক্সুয়ালি অত্যাচারিত হন। এই বিষয়গুলো তারা লজ্জায় কাউকে বলতেও পারেন না, আর কিভাবে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন তাও জানেন না। তাদের জন্যই আজকের প্রবন্ধটি।
মূল লেখা উস্তাদ মুহাম্মাদ তিম হাম্বলের। আমরা অনুবাদের পর বেশকিছু অংশ সংযোজন বিয়োজন করেছি। অনুবাদ করেছেন আহমাদ রবিন ভাই।

[খ]
এই ধরনের মহিলা রোগী তুলনামূলক বেশি হলেও পুরুষদের মাঝেও একবারে কম নয়। বেশিরভাগ রোগীই রাতে ঘুমের মাঝে অত্যাচারিত হন, কেউ কেউ আবার বিছানায় গা ছোঁয়ানোর পরেই আক্রান্ত হন।
যাদের সমস্যা কম, তারা ঘুমের সময় অনুভব করেন, তার পাশে অথবা তাদের স্বামীস্ত্রীর মাঝে কেউ শুয়ে আছে, কখনও মনে হয় তাকে স্পর্শ করছে। আর কারও কারও অবস্থা এমন যে, স্বপ্নে অনেক ধস্তাধস্তি করেন, এক পর্যায়ে শক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়।
সাধারণ স্বপ্ন থেকে এর অভিজ্ঞতা ভিন্ন। যেমনটা বোবায় ধরা বা অন্যান্য দুঃস্বপ্নের পর ঘুম ভাঙ্গলে অন্যদের হয়ে থাকে, সেসবের চেয়ে সাধারণত এর অনুভূতি প্রখর হয়। কাউকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করলে, রেপ করলে যেমন ব্যথা-যন্ত্রণা অনুভূত হয় রোগীরা এই সময় অনেকটা এমন যন্ত্রণা অনুভব করেন। এমনকি সকালে ঘুম থেকে উঠেও নিজেকে মাতালের মত লাগে, বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা হয়ে থাকে, যেমনটা বাস্তবে কোন মানুষ তাদের নির্যাতন করলে লাগত।

[গ]
অন্যান্য জটিল সমস্যা আক্রান্ত রোগীদের চেয়ে এই ধরনের রোগীরা বেশি যন্ত্রণার, বেশি পীড়ার শিকার হন। যৌন নির্যাতনের ফলে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি তারা মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন। কাজেই পরিবারের কেউ যদি এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় তাহলে তাকে রুকইয়াহর পাশাপাশি মানসিক সাপোর্ট দেয়া খুবই জরুরি।
রোগীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য কিছু বিষয় এখানেই পরিষ্কার করা উচিৎ বলে মনে করি,
প্রথমত: স্বপ্ন বা ঘুমের মাঝে এরকম হওয়ার মানেই এই না যে, ছেলে বা মেয়েটি সত্যিই কারও সাথে যৌনক্রিয়া করেছে। সত্যিই শারীরিকভাবে রেপ হওয়ার আর এই স্প্রিচ্যুয়াল এটাকের মাঝে বহুত পার্থক্য আছে।
সুতরাং তাঁর ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা করা মোটেও উচিৎ না। আপনার দেয়া সামান্য সাপোর্ট যেমন তার এই সমস্যা থেকে মুক্তির ওসীলা হতে পারে, তেমনি আপনার মিথ্যা তিরস্কারের জন্য সে জীবনের আশাও ছেড়ে দিতে পারে। তাই সহযোগী হোন, প্রতিপক্ষ হবেন না।
দ্বিতীয়ত: ঠিকমত রুকইয়াহ করলে আল্লাহর অনুগ্রহে খুব দ্রুত এই সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া যায়, তাই দেরি না করে জলদি ব্যবস্থা নিন আর অবশ্যই দোয়া করতে থাকুন।

[ঘ]
যাদের স্বপ্নে শুধু এমন অভিজ্ঞতা হয় কিন্তু শারীরিকভাবে অন্যকোন সমস্যা অনুভব করেন না তারাও ইনশাআল্লাহ এই পোস্ট থেকে সমানভাবে উপকৃত হবেন:
১। প্রথমেই ঘর থেকে সকল ধরনের আল্লাহর অবাধ্যতার সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলুন। যেমন: টেলিভিশন, রেডিও, টেপরেকর্ডার, ছবি, পুতুল, মূর্তি (এই ধরনের সকল শোপিস) । যদি আপনার পক্ষে বাসার সব কিছু ঠিক করা সম্ভব না হয় তাহলে কর্তব্য হল, অন্তত নিজের ব্যক্তিগত ঘরকে এসব থেকে পবিত্র করুন।
২। সালাত ও দোয়াতে কোনরকম অবহেলা করবেন না। বিশেষত: প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমের আগের মাসনুন আমলগুলো অবশ্যই করবেন। মেয়েদের পিরিয়ডের সময়েও যেন এসব আমল বাদ না যায়। নামাজ পড়া না লাগলেও নামাজের সময় হলে সেই ওয়াক্তের যিকর-আযকারগুলো কয়েক মিনিট সময় নিয়ে আদায় করে ফেলবেন।
৩। যখন এই ধরনের ঘটনা গুলো ঘটার সম্ভাবনা থাকে যেমন রাতে ঘুমানোর আগে, রাতে হুট করে ঘুমে ভেঙ্গে গেলে অথবা শয়তান যখন আক্রমণ করবে তখন শত্রুর উপর জয়ী হবার জন্য যেসব দোয়া আছে সেগুলো বার বার পড়া।
কিছু দোয়া এখানে পাবেন http://duas.com/search.php?search=&categories[]=87
যে কয়টা পারেন একদম ভালভাবে মুখস্থ করে নিন। আমি রুকইয়াহ করার মাঝে দুয়ার সময় এরকম একটা দুয়া পড়ি, যা মুসলিম শরিফে আছে। আর আমি শাইখ খালিদ হিবশির রুকইয়াহ থেকে শিখেছি-
“اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ ، سَرِيعَ الْحِسَابِ ، مُجْرِيَ السَّحَابِ ، هَازِمَ الأَحْزَابِ ، اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ”
৪। ঘুমানোর আগে সম্ভব হলে রুকইয়াহর গোসল করে নিন। উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ। সম্ভব না হলে অন্তত ওযু করে নিন, এক্ষেত্রে ওযুর পানিতে কিছু আয়াত পড়ে ফু দিয়ে নিলে আরও ভাল, যেমন আয়াতুল কুরসি এবং তিনকুল পড়তে পারেন।
৫। রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়ে অলিভ ওয়েলে ফু দিয়ে রাতে ঘুমের আগে সারা গায়ে মালিশ করুন। (৭দিনের ডিটক্স রুকইয়ার মত)
৬। প্রতিদিন ঘুমের আগে অথবা অন্তত সন্ধ্যার পর কোন সময়ে “রুকইয়াহ যিনা” শুনুন। এটা অনেক উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।
ডাউনলোড লিংকঃ https://ruqyahbd.org/download#zina
৭। তাহাজ্জুদের সালাতে দাঁড়িয়ে যান। শয়তান যখনই এমন করবে আপনার উচিত হবে সাথে সাথে নামাযের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। শয়তান কখনই চাইবে না আপনি সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন। রাতে ঘুম ভাঙলেই আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করবেন, তখন শয়তান আর আপনাকে ঘুমের মধ্যে বিরক্ত করতে চাইবে না। চাইবে যেন আপনি তাহাজ্জুদ আদায় করতে না পারেন, ঘুমিয়ে থাকেন।
৮। রাতে একা একা না ঘুমানো। অনেকের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যদি সাথে কেউ থাকে তাহলে এই ধরনের ঘটনা কম ঘটে। এটা করা আবশ্যক না, তবে করলে ভাল। আর আপনি বিবাহিত না হলে যতদ্রুত সম্ভব বিয়ে করে ফেলা উচিৎ।
৯। সমস্যা জটিল হলে অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নিন এবং নিয়মিত কোন রুকইয়ার রুটিন ফলো করুন। আপনি চাইলে আমাদের গ্রুপে পোস্ট দিতে পারেন, ইনশাআল্লাহ পরামর্শ পাবেন। আর আমভাবে পরামর্শ চাইলে বলব, উপরের বিষয়গুলো খেয়াল পাশাপাশি ৭দিনের ডিটক্স রুকইয়াহ করে এরপর আপডেট জানান।
ডিটক্স সম্পর্কে জানতে দেখুন: https://facebook.com/thealmahmud/posts/1539586162797575

মোটকথা হল, এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায় সবগুলো পালন করা। ইনশাআল্লাহ শত্রু শীঘ্রই পরাজিত হবে। আল্লাহ কবুল করুন। সহজ করুন। আমিন.!

Leave a Reply

ে ি মতামত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twelve + = 18