কবিরাজরা আমার সম্পর্কে এত কিছু কিভাবে বললো?

প্রশ্নঃ

পীর/ হুজুর কিভাবে বলে দেয় যে আমাকে তাবিজ করা হয়েছে? কিভাবে বলে দেয় যে আমি ছোটবেলা কি কি করেছিলাম? এমন সব কথা বলে যে আমি ছাড়া আর কারো জানার কথা না! কিভাবে বলে?

উত্তরঃ

প্রত্যেক মানুষের সাথে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন কারিন জীন থাকে। সে আমাদের সাথেই থাকে, তাই আমাদের ব্যপারে বেশ ভালো জানাশুনা আছে তার।

এখন যাদুকর তার নিজের জীনকে পাঠিয়ে আমাদের এই কারিন জীনকে প্রভাবিত করে আল্লাহর ইচ্ছায় তার থেকে বেশকিছু তথ্য জেনে নিতে পারে। তাবিজ করা হয়েছে কিনা এটাও প্রায় একইভাবে বলে। যাদুকর যদি জীনদের সাহায্যে যাদু করে তাহলে যাদুর জীনও আশেপাশেই থাকে। এই হুজুরের জীন যাদুকরের নিয়োজিত জীন থেকে বেশকিছু তথ্য জেনে নিয়ে এটা হুজুরকে জানায়। বলে রাখা ভালো উভয় ক্ষেত্রেই হারাম পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। এভাবে জীনদের থেকে সাহায্য নেয়া হারাম। ক্ষেত্রবিশেষে এটা কুফর, শিরক। অবশ্য যাদুকরের জীন তাকে এমনিতেই এই কাজটা করে দিবেনা। এরজন্য যাদুকরকে এই জীনের কথামত গোলামী করতে হয়। গোলামীর ধরন কেমন হতে পারে? যাদুকরকে কোরআন অবমাননার জন্য বলবে, শিরক করার জন্য বলবে। কারীন জিন, যাদুর জীন এদের খুশি করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল আল্লাহর নাফরমানী করা।

জীনদের সাহায্য নেয়া যাবে কিনা এটা নিয়ে এখানে আরো বিস্তারিত আছে – জিনের সাহায্য নেয়া কি ঠিক?

 

সম্পূরক প্রশ্নঃ তাহলে যাদু/জীনের সমস্যার চিকিৎসা কিভাবে হবে?

উত্তরঃ শরীয়তসম্মত রুকইয়া করে। কোরআনের আয়াত এবং এবং রাসুল (সা) থেকে বর্ণিত উপায়ে। আরো জানতে এই ব্লগের লেখাগুলো এবং রুকইয়াহ সাপোর্ট গ্রুপের পিন পোস্ট পড়তে পারেন- https://facebook.com/groups/ruqyahbd

 

প্রশ্নঃ ওরা কিভাবে ভবিষ্যতের কথা বলে দেয়? হুজুর যা বলেছিল হবে, সেটাই হয়ে গেছে! কিভাবে সম্ভব?

উত্তরঃ যখন আল্লাহ কোন সিদ্ধান্ত নেন তখন সেটা ফেরেশতাদের জানিয়ে দেন। ফেরেশতারা আল্লাহর ভয়ে ডানা ঝাপটাতে থাকেন তারপর নিজেরা আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে থাকেন। এভাবে আল্লাহর সিদ্ধান্ত উপরের দিকে থাকা ফেরেশতা থেকে নিম্ন আসমানের দিকের ফেরেশতাদের কাছে আসে। উনারা বলাবলি করতে থাকেন, আমাদের রব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন!

শয়তানরা একজনের উপর আরেকজন উঠে মইয়ের মত করে উপরের দিকে উঠতে থাকে। উপরে উঠে তারা নিম্ন আকাশের দিকে থাকা ফেরেশতাদের কথা শুনার চেষ্টা করে। দুয়েকটা কথা শুনেও। তবে এরা উপরের দিকে উঠলেই আগুনের উল্কা এদের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। তাই বেশি কথা শুনতে পারেনা। এরা যা শুনে সেটা সত্যি কথা। এরা এই সত্যের সাথে আরো কয়েকশ মিথ্যা মিশিয়ে যাদুকর/গণককে বলে দেয়। যাদুকর সেটা বলে মানূষকে চমকে দেয়। মানুষও যখন দেখে যাদুকরের কথামত কিছু কথা মিলে যাচ্ছে তখন সেটা বিশ্বাস করে! যাদুকর/গণক/জ্যোতিষী এদের কাছে গিয়ে নিজের ভবিষ্যত জানতে চাওয়া অনেক বড় ধরনের গুনাহ। গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ জানেন। সকল কাজে একমাত্র আল্লহর উপরই ভরসা করা উচিত।

* আল্লাহ চাইলে এই নোটে আরো প্রশ্ন যোগ করা হবে এবং আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

forty six + = fifty