জিনের সাহায্য নেয়া কি ঠিক?

প্রশ্নঃ

জিন, যাদুর সমস্যায় অনেক হুজুর নিজের সাথে থাকা জিন দিয়ে জবাব নিয়ে দেয়। অনেক সময় এই জিন দিয়ে আল্লাহর ইচ্ছায় সমস্যা ভালোও করে দেয়। এদের কাছ থেকে সাহায্য নেয়া যাবেনা কেন? হুজুর দাবী করেছেন উনার সাথের জিনটি মুসলিম জিন।

উত্তরঃ

জিনরা প্রচুর মিথ্যা কথা বলে। যদি ধরে নেয়া যায় যে সত্যিই জিনটি মুসলিম তাহলে আপনি তার সাহায্য নিবেন কেন? আল্লাহ তো আছেন সাহায্য করার জন্য! সুলাইমান (আ)কে আল্লাহ জিনদের উপর কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন। জিনরা তাঁর কথা মেনে চলত।

সুরা ছোয়াদের ৩৫ থেকে ৩৮ নাম্বার আয়াতে এটা উল্লেখ আছে,

সে বলল, হে আমার মালিক, তুমি আমাকে ক্ষমা করো, তুমি আমাকে এমন এক সাম্রাজ্য দান করো, যা আমার পরে আর কেউ কোনদিন পাবে না, নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা। (৩৫) তখন আমি বাতাসকেও তার অধীন করে দিলাম, তা তার ইচ্ছানুযায়ী সেখানেই নিয়ে যেতো যেখানেই সে যেতে চাইতো। (৩৬) শয়তান(জিন)-দেরও, যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী। (৩৭) শৃংখলিত অন্য আরো অনেককেও। (৩৮)

সুলাইমান (আ) দোয়া করেছিলেন যেন তাঁর পরে আর কেউ এই সাম্রাজ্য না পায়। আল্লাহ জিনদের কন্ট্রোল করার ক্ষমতা সুলাইমান (আ)কে দিয়েছিলেন। তাঁর পরে অন্য কাওকে নয়।

 

সম্পূরক প্রশ্নঃ তাহলে মসজিদের হুজুর, বড় আলেম, কবিরাজ, যাদুকর যারাই দাবী করে তারা জিনদের কন্ট্রোল করতে পারে তারা কি মিথ্যা বলছে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, মিথ্যা কথা বলছে। মূলত জিনরাই তাদেরকে কন্ট্রোলে রাখে।

 

আরেকটা প্রশ্নঃ জিনদের দিয়ে তারা সবাই অনেক কাজ করে। এটা তাহলে কিভাবে?

উত্তরঃ সহজ, কন্ট্রোল যেহেতু করতে পারছেনা তারমানে এখানে একটা চুক্তি হচ্ছে। তুমি আমাকে খুশি করবে, তাহলে আমি তোমার কাজ করে দিব। এই খুশি করে দেয়ার নামে যাদুকরকে অনেক কিছুই স্যাক্রিফাইস করতে হয়। শয়তান সবচেয়ে খুশি হয় কখন? যখন আল্লাহর আইন অমান্য করা হয়। শয়তান চায় আমরাও যাতে তার সাথে জাহান্নামের চিরস্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাই। তাই ইসলামকে অবমাননা করলেই শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয় এবং নানান কাজ করে দেয়।

 

আবারও প্রশ্নঃ আমাদের হুজুরের জিন মুসলমান এবং হুজুর ইসলাম অবমাননার কোন কাজই করেনা। সে হুজুরকে তাহাজ্জুদ পড়তে বলে, তসবি পড়তে বলে, নামাজ পড়তে বলে। হুজুর জিন দিয়ে অনেক ভালো কাজ করেন। ভালো তদবির করেন।

উত্তরঃ আপনিতো আর জানেন না সে কিভাবে কি করছে। কিছু রিচুয়াল সে অবশ্যই লুকিয়ে করে। সবকিছু আপনার সামনে করবেনা। তাহলে সে যে একান্ত গোপনে শয়তানকে খুশি করার জন্য আল্লাহর অবাধ্য হচ্ছেনা সেটা আপনি কিভাবে বুঝবেন? জিনদের সাহায্য নিলে কি হবে সেটা আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলে দিয়েছেন। সুরা আন’আমের ১২৮ নাম্বার আয়াত দেখুন,

সেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন, বলবেন, হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা তো অনেক মানুষকেই গোমরাহ করেছো, মানুষের মধ্যে থেকে (যারা) তাদের বন্ধু (তারা) বলবে, হে আমাদের মালিক, আমরা এক একজন এক একজনকে (ব্যবহার করে) দুনিয়ার জীবনে প্রচুর লাভ কামাচ্ছিলাম, আর এভাবেই আমরা চুড়ান্ত সময়ে এসে হাজির হয়েছি, যা তুমি আমাদের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছিলে; তিনি (আল্লাহ তায়ালা) বলবেন, তোমাদের ঠিকানা আগুন, সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে, অবশ্য আল্লাহ তায়ালা যা কিছু চাইবেন (তা আলাদা); তোমার মালিক অবশ্যই প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত।

 

প্রশ্নঃ আচ্ছা তাহলে এসব জিন, যাদুর চিকিৎসা করব কিভাবে?

উত্তরঃ কোরআন দিয়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে কোরআন পড়বে অথবা অন্য কেউ তার সামনে পড়বে। কোরআন পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে সেটা দিয়ে গোসল করবে, খাবে। সুন্নাহসম্মত কিছু দোয়া আছে এগুলোও পড়বে। সুন্নাহসম্মত কোরআন দিয়ে ঝাঁড়ফুককে বলা হয় রুকইয়াহ শারইয়্যাহ।

 

প্রশ্নঃ দীর্ঘদিন রুকইয়াহ করেও দেখা যায় অনেকের সমস্যা ভালো হয়না। একটু ভালো হলে দেখা যায় জীন, যাদুর সমস্যা আবার ফিরে আসছে। এর স্থায়ী সমাধান কি হতে পারে?

উত্তরঃ এই সমস্যাগুলো আসলে আমাদের জীবনের অন্যান্য সমস্যার মতই। এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। দুনিয়া একটা ফিতনার জায়গা। আপনি আল্লাহর উপর ভরসা ছেড়ে অন্য কারো উপর ভরসা করলেই পরীক্ষায় ফেল করবেন। তাই ইসলামসম্মত সকল বৈধ উপায়ে চিকিৎসা করার পরেও যদি আপনার কোন সমস্যা ভালো না হয় তাহলে নিরাশ না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে টাইট হয়ে বসেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করেন আর চিকিৎসা চালিয়ে যান। আল্লাহ চাইলে ভালো হয়ে যাবেন।

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + four =