আমার তেমন কোনো সমস্যা নেই, আমার কি রুকইয়াহ করা উচিত?

‘সমস্যা নেই’ বলতে আমি ধরে নিচ্ছি নিশ্চিতভাবেই আপনার জিন, জাদু, নজরের কোন সমস্যা নেই। নিত্যদিনের ফরজ – ওয়াজিব ইবাদত ঠিকঠাক পালন করেন। হালাল-হারাম মেনে চলেন।
এরপর আপনি নিরাপত্তার জন্য আর কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন-
.
১. প্রতিদিনের হিফাজতের মাসনুন আমল। অন্তত সকাল সন্ধ্যা এবং ঘুমের আগের বেসিক আমলগুলো অবশ্যই সবার করা উচিত। খাবার সময় বিসমিল্লাহ বলার অভ্যাস করা উচিত। (মাসনুন আমলের ব্যাপারে জানতে কমেন্টের ১ম লিংক)। আল্লাহ চায়তো এটা আপনার জাগতিক বিপদ-আপদ থেকে হিফাজতেরও মাধ্যম হবে।
.
২. মানুষের বদনজর লাগা খুবই স্বাভাবিক, তাই এক – দুই সপ্তাহ পরপর সবারই নজরের রুকইয়াহ করা উচিত। সন্ধ্যা বেলায় বা নির্জন যায়গায় চলাচলের অভ্যাস থাকলে জিনের নজরও লাগতে পারে। (নজরের রুকইয়ার সহজ নিয়ম কমেন্টের ২য় লিংকে)
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমের আগে ৩কুল পড়ে যে শরীর মুছে নিতেন, এটাকে অনেক মুহাদ্দিস রুকইয়ার অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন। সেই হিসেবে বলা যায়, রাসূল ﷺ হিফাজতের আমলের পাশাপাশি নিয়মিত অল্প কিছু রুকইয়াও করতেন।
.
৩. কোনো রোগব্যাধি হলে বাহ্যিক চিকিৎসার পাশাপাশি রুকইয়াও করা উচিত।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তাক্বদির ও আল্লাহর ফায়সালার পর আমার উম্মতের বড় বিরাট অংশের মৃত্যু কারণ হবে বদনজর। (মুসনাদে আবি দাউদ) শুধু নজরের রুকইয়াহ না, এমনি রোগব্যাধি থেকে আরোগ্যের নিয়াত করেও সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, তিনকুল, আয়াতুশ শিফা – এসব বারবার পড়ে নিজেকে ফুঁ দেয়া যায়, হাতে ফু দিয়ে শরীর মোছা যায়, ওষুধে ফু দিয়ে খাওয়া যায়। (শারীরিক রোগব্যাধির রুকইয়ার নিয়ম কমেন্টের ৩য় লিংক দেখুন।)
.
৪. আর জিন-জাদু নিয়ে কী বলব বলেন! একে তো বাংলা ও হিন্দুস্তানে অলিতে-গলিতে জাদুকর পাওয়া যায়। টাকাও লাগে না, ফ্রিতেই কুফরি করে মানুষ কাফের হয়ে যায়। পাশাপাশি এই অঞ্চলে শিরক ও মুশরিকের আধিক্যের কারণে শয়তানের আনাগোনাও বেশি। তাই আমাদের হিফাজতের আমলের পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই রুকইয়াহ করা উচিত।
.
৫. যাদের পরিবার বা নিকটের কেউ এসব সমস্যায় আক্রান্ত আছে, তাদের তো মনে করি রুটিন করে প্রতি সপ্তাহে ১-২দিন রুকইয়াহ করা উচিত। নজরের রুকইয়াহ প্রতি সপ্তাহে, আর জিন-জাদুর নিয়তে প্রতিমাসে দুয়েকদিন রুকইয়াহ করা উচিত। এর উদ্দেশ্য হল ছোটখাটো সমস্যা হলেও যেন শুরুতেই ভালো হয়ে যায়। বড় সমস্যা যেন শুরুতেই ধরা পড়ে, আর বেশি কিছু হওয়ার আগেই চিকিৎসা নেয়া যায়।
(এছাড়া বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাচার পরামর্শ এবং আপনার সমস্যা থাকলে কিভাবে বুঝবেন এসব লিংক কমেন্টে দিয়ে দিব ইনশাআল্লাহ।)
.
যাহোক, আশা করছি বিষয়টা বোঝাতে পেরেছি।

মন্তব্য করুন