রুকইয়াহ ও রমাযান

লিখেছেন- উম্মে আব্দুল্লাহ

 

[ক]
আলহামদুলিল্লাহ। রব্বুল আ’লামীন আমাদের আরো একটা রমাযান লাভের তৌফিক দিলেন। এই বরকমতময় মাসটাতে কম বেশি সবাই ইবাদাতে সময় কাটাতে চান। যে যার অবস্থান থেকে সর্বচ্চ চেষ্টা করেন সময়গুলোকে কাজে লাগানোর। তো সেই হিসেবে অনেকেই ভাবেন এই রমাযানে রুকইয়াহ না করে এই সময়টা বেশি বেশি ইবাদাত, কুর’আন খতমের ব্যাপারে ফিকির করাই উত্তম। 
যখন কিনা এই মাসটাতেই আরো বেশি করে রুকইয়ার ফিকির করা উচিত ছিলো। কারন,

এক, এইটা বরকতময় মাস।

দুই, এইসময় রব্বুল আ’লামীন শয়তানকে শিকলবন্দী করে রাখেন।

তিন, এই মাসটাতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ব্যস্ততা কম থাকে।

চার, এই সময় সওয়াব সত্তরগুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।

পাঁচ, সাধারণত এই সময়ে গুনাহ কম হয়।

সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এই মাসে রুকইয়াহর প্রভাবও বেশি হবে ইনশাআল্লাহ।

[খ]
তবে যেহেতু, রমাযানে সবাই কুরআনুল কারীমের সাথে বেশি সময় কাটাতে চান। সেক্ষেত্রে কিছু কাজ করা যেতে পারে__
– এক্ষেত্রে সহজ এবং সুবিধাজনক পদ্ধতি হলো সাতদিনের ডিটক্স করার নিয়াত করে ফেলা। আর আশা রাখুন এই সাতদিনে আপনি শিফা লাভ করবেনই ইনশাআল্লাহ। এই রহমতের মাসে আপনি তাঁর রহমতে সিক্ত হবেন ইনশাআল্লাহ।
এর সাথে সাথে আপনার প্রতিদিনের ইবাদাতের পরিমাণটা একটু বাড়িয়ে নিন।
যেমন, আপনি যদি প্রতিদিন এক পারা করে কুর’আন তিলাওয়াতের কথা ভাবেন। সেক্ষেত্রে রুকইয়ার দিনগুলোতে চেষ্টা করুন দেড়/দুই পারা তিলাওয়াত করতে।
– এরসাথে প্রতিদিনের যিকর-আযকারের মধ্যে ইস্তেগফার এবং দরুদ শরীফের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া।।

– গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা খুবই সহজ এই মাসটাতে। সুযোগটাকে কাজে লাগান।।
– বেশি বেশি দু’আ করা। অনেক বেশি। বিশেষ করে দু’আ কবুলের সময়গুলোতে গুরুত্বের সাথে দু’আ করা।
– আর সাধ্যানুযায়ী দান-সাদকা করা..। যেটা পরিমাণে অল্প হলেও নিয়মিত হবে। আর সাদকায়ে জারিয়ার ব্যবস্থা করা গেলে তো আরও ভাল।

[গ]
অনেকেই বলেন, ডিটক্সে কি রুকইয়াহ শুনবো??
এক্ষেত্রে চেষ্টা করুন রুকইয়াহ না শুনে রুকইয়াহর আয়াত তিলাওয়াতের। এখন প্রশ্ন আসতে পারে কি তিলাওয়াত করবো?
উত্তর- চেষ্টা করুন সুরা বাকারা তিলাওয়াত করতে। প্রতিদিন সম্পূর্ণটা না হলেও অন্তত কিছু অংশ (যেমন: এক তৃতীয়াংশ) তিলাওয়াত করুন। আর প্রতিদিন এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখুন।
পাশাপাশি যাদের যে সমস্যা, সমস্যা অনুসারে সেই আয়াতগুলো পড়া। যেমন কারো যদি সিহরের সমস্যা থাকে তাহলে সিহরের আয়াত, জিনের সমস্যার ক্ষেত্রে আয়াতুল হারক ইত্যাদি।
আর যদি না বুঝেন কি সমস্যা অথবা বেশি কনফিউশন থাকে, তাহলে শিফার নিয়াতে রুকইয়ার কমন আয়াত পড়তে পারেন।
আরেকটা প্রশ্ন হল, ডিটক্সে গোসলের পর পানি আর মধু-কালোজিরা খেতে হয়, রোজা রেখে এটা কি করব?
উত্তর- এটা সাহরির সময়ের একদম শেষের দিকে খাবেন। বাকি অন্যান্য কাজ, তেল ব্যবহার করা, গোসল করা আগের নিয়মেই।

রব্বুল আ’লামীন আমাদের সকলের পেরেশানি দূর করুন। এই বরকতময় মাসটাকে কাজে লাগানোর তৌফিক দিন, আর যারা অসুস্থ আছেন তাদের শিফায়ে কামেলা দান করুন।। আমিন ।।

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ seventeen = twenty