গর্ভাবস্থায় কী দোয়া পড়বেন?

অনেকে জানতে চেয়েছেন, গর্ভাবস্থায় কী দুয়া পড়া যায়? অথবা নেক সন্তানের জন্যে কী দুয়া করা যায়?

সন্তান লাভ করা ইসলামের দৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল সা. উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পছন্দ করেছে। বর্তমান প্রকৃত মুসলিমদের যে শোচনীয় অবস্থা, এ প্রেক্ষিতে অধিক হারে সন্তান নেয়া মুসলিম পরিবারের কর্তব্য। এখানে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

“সবে বিয়ে হয়েছে, এখন সন্তান নিলে ফিগার ঠিক থাকবে না। মানুষ কী বলবে? চাকুরিতে সেলারি যা পাই এতে দুজনেরই সংসার চলে না। সদস্য বাড়লে তাকে খাওয়াব কী? সারাদিন ব্যবসা জব ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ততা স্বামী স্ত্রীর। বাচ্চাকে দেয়ার মত সময় নেই, তাই বাচ্চা নেই না।”

ইত্যাদি নানারকম, ঠুনকো অজুহাত, কুপ্রথা, কুসংস্কার ও ঈমান বিধ্বংসী ধ্যানধারণার খেসারত সমাজে স্পষ্ট।

প্রথমে নানানরকম বাহানা আর পিল গ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে বাচ্চা না নেয়ার পর, যখন বাচ্চা গ্রহণে ব্যাকুল হয়ে উঠে। তখনই দেখা যায় আল্লাহর রহমত উঠে গেছে। শুরু হয়, অস্থিরতা আর হতাশা। অতি শিক্ষিত, স্মার্ট লোকেরাও ভীড় করে রাস্তায় দিকভ্রান্ত উলংগ পাগলের ফুঁ বা স্পর্শ নেয়ার জন্যে। মসজিদের ইমাম, হুজুর থেকে নিয়ে মাজারে মান্নত। লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে উন্নত চিকিৎসা.. তবুও সন্তান হয় না। আল্লাহ পানাহ!

সুতরাং বিয়ের পর সন্তান গ্রহণে অবহেলার সুযোগ নেই। নেক সন্তানের নিয়তে, বা আমাদের সন্তান হলে তাকে আল্লাহর দ্বীনের খাদেম বানাবো। তাকে দ্বীনদার বানানোর চেষ্টা করব, এই নেক নিয়তে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়াতেও রয়েছে বিপুল সওয়াব। সন্তান গর্ভে আসার পর কিছু দুয়া করা উচিত। এখানে কিছু দুয়া উল্লেখ করা হয়েছে, সন্তান লাভের জন্যে নবীগণ যে দুয়া করেছিলেন। এই দুয়াগুলো স্রেফ সন্তান লাভের জন্যে নয়, সন্তান গর্ভে আসার পরেও করা উচিত। যাতে সুস্থ ও সুসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। দুয়াগুলো পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করেছেন।

(১)

رَبِّ اجْعَلْنِىْ مُقِيْمَ الصَّلٰوةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِى, رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَآء

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামায কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, এবং কবুল করুন আমাদের দোয়া। [ইবরাহীম ১৪:৪০ ]

(২)

رَبَّنَا هَبْ لَـنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَامًا

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান কর যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দাও।  [আল-ফুরক়ান ২৫:৭৪]

**এই দুটি দুয়া সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেও করা উচিত।

(৩)

رَبِّ هَبْ لِىْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً‌ۚ اِنَّكَ سَمِيْعُ الدُّعَآءِ

যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান করুন। -নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। [আল ‘ইমরান ৩:৩৮]

(৪)

ٗ رَبِّ لَا تَذَرْنِىْ فَرْدًا وَّاَنْتَ خَيْرُ الْوٰرِثِيْنَ‌ ۖۚ

হে আমার পালনকর্তা আমাকে নিঃসন্তান রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস।
[আল-আম্বিয়া ২১:৮৯]

যাকারিয়া আ. এই দুয়া করেছিলেন, এরপর আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম আর তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া, আমি তার নিমিত্তে তার স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে দিয়েছিলাম। এরা সৎ কাজে ছিল ক্ষিপ্রগতি, তারা আমাকে ডাকতো আশা নিয়ে ও ভীত হয়ে, আর তারা ছিল আমার প্রতি বিনয়ী।”
[আল-আম্বিয়া ২১:৯০]

(৫)

رَبِّ هَبْ لِىْ مِنَ الصّٰلِحِيْنَ

হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দান করুন।
[আস-সাফফাত ৩৭:১০০]

এগুলো মুখস্ত করে অথবা দেখে দেখে প্রায়ই পড়া উচিত। শুধু বাচ্চার মা পড়বেন, তা নয়। বাচ্চার বাবারও পড়া উচিত। ফরজ নামাজের পর দুয়া কবুল হয়, তখন এই দুয়াগুলো করতে পারেন। এছাড়া, তাহাজ্জুদ পড়ে এই দুয়া করা যেতে পারে। সুফল পাবেন ইনশাআল্লাহ!

————-
লিখেছেন- শায়েখ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
সোর্সঃ https://facebook.com/groups/naseehah/permalink/1945935265654042/

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

+ eighty one = eighty five