রাক্বির জন্য জ্বিন হাজির হয়!!

কয়েক বছর আগে এক (নারী) পাগল করা জাদুর পেশেন্ট দেখেছিলাম। তো রুকইয়াহ কনসাল্ট করেছিলাম। কনসাল্ট করে বলেছিলাম রুকইয়াহ করলে আপনার জ্বিন নাও আসতে পারে মনে হচ্ছে(কারন সে জ্বিন হাজির করতে বলছিলো)। তাও সে রুকইয়াহ করে জ্বিন হাজির করতে বললো। আমি অপারগতা প্রকাশ করলাম, মানে নিশ্চয়তা দিতে পারিনি।

অনেক দিন পর রুকইয়াহ করতে আসে। রুকইয়াহ করেছিলাম দেড় ঘন্টার একটু বেশি। তো জ্বিন আসে নাই, আর ইফেক্ট তাই হয়েছিলো যা নরমালি জাদুর ক্ষেত্রে হয়(যেমন কান্না, কোমড়ে ব্যথা, ঘাম দেওয়া)।

এরপর সে বললো ঢাকার অমুক রাক্বির মতো জ্বিনটা হাজির করে বিদায় করে দেন না!!!
আমি বললাম আপনি নিজেই ঢাকার অমুক রাক্বির নিকট গিয়ে রুকইয়াহ করে দেখতে পারেন।
এরপর সে এক বছর পর আসে এবং এসে বলে আমি এতোদিন ঢাকার রাক্বিদের পরামর্শ ফলো করেছিলাম। এবং বললো ঢাকাতে কার কার নিকট রুকইয়াহ করছে। অনলাইনে সে রাক্বি ভাইরা পরিচিত সবাই(যাদের নিকট করছেন)।
সে যাইহোক জ্বিন ঐ রাক্বি ভাইরাও হাজির করতে পারেন নাই(কারন এই ক্ষমতা কোন রাক্বির নেই)। এরপর সে বুঝতে পারলো যে হ্যা তার জ্বিনটা আসবে না(মাসসূল খফি জ্বিন)। তো বললাম সেলফ রুকইয়াহর সময় প্রেসার দিবেন জয়েন্টে জয়েন্টে ও ব্যথা স্থানে। প্রয়োজনে হাতে রুকইয়াহর তেল লাগিয়ে ম্যাসাজের মতো করবেন। এরপর তার আর কোন রুকইয়াহ করিনি। কারন সে আসলে মেন্টালীও অসুস্থ টাইপ হয়ে গেছে(আল্লাহ শিফা দান করুন)। জ্বিন হাজির করে বের করে দেনটাই তার শেষ লাইন। আরো কিছূ পারিবারিক সমস্যা ছিলো তার যা কেইজ জটিল করে দিয়েছিলো।

তো এরকম আরো কিছু পেশেন্ট বিভিন্ন সময়ে পেয়েছি। যাদের আক্বিদাহ ঐ একই যে রাক্বি জ্বিন হাজির করে এরপর বের করে দেয়। অনেককে আবার নেক সুরতে শয়তান বলে আপনি রাক্বি, তাই আপনার তাকওয়া বেশি এইজন্য জ্বিন হাজির হতে পারে বলেই বলেছি। এরা হলো মানুষ শয়তান। কারন তারা আপনার তাকওয়াকে বাশ দিতে এসেছে(একটু রেগেই বললাম)।

যারা বিশ্বাস করে জ্বিন রাক্বির কারনে বা রাক্বির তাকওয়ার কারনে হাজির হয় তাহলে এদের ঈমান রুকইয়াহর এই বিষয়ে বিশুদ্ধ না(কোন ২য় কথা নাই)। যারা বিশ্বাস করে জ্বিনকে আল্লাহই হাজির করেন এবং কুরআনের মুজিজা প্রকাশ করেন এবং এটা ঈমানের সাথে তিলাওয়াত করলে যে কেউ রুকইয়াহ করলে আসবে কারন এটা আল্লাহই উপস্থিত করেন এরাই প্রকৃত ঈমানদার।
তাহলে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বা অন্যান্য বড় বড় ইমামদের সময়ে যে জ্বিন হাজির হয়েছিলো রুকইয়াহর আগেই সেটা কি বলবেন?
এরকম আমার এখন পর্যন্ত অনেক হয়েছে, চেম্বারে ঢুকেই জ্বিন এসেছে বা আমি যাচ্ছি তখন জ্বিন ঘরে ভাংচুর শুরু করে দিয়ছে। তো আমিও কি বড় ইমাম(আল্লাহ ক্ষমা করুন)?
এখন খেয়াল করেন ইমামগণ রুকইয়াহ করার আগেই জ্বিন চলে এসেছে এবং তাদের ধমকিতে বের হয়ে গেছে? না বের হয়নি, আল্লাহর ক্ষমতা উপলব্ধি করতে পেরেই তা বের হয়েছে। আর যে আল্লাহর দাসত্ব যত বেশি করে তার ধমক ততো শক্তিশালী। এটাই হলো তাদের ঈমানের স্তর। জ্বিন চলে আসা রাক্বির ক্রেডিট না এবং চলে যাওয়াও না। বরং পেশেন্ট ও রাক্বির রবের সাথে সম্পর্কের বিষয় এটি।
এখন প্রশ্ন আসবে যে তাহলে আপনার ঈমানে কি সমস্যা আছে কারন একাধিক কেইজ তো শেষ হচ্ছে না?
ঈমানে সমস্যা নেই তবে ঈমান অনুযায়ী আমল নেই। যেমন সুদ হারাম কিন্তু ব্যাংকের ছোয়ায় যেতে হয়। সমাজে ফাহেশা কাজ বন্ধ করা জরুরী কিন্তু করা হচ্ছে না, গান বাজনা রুকইয়াহর সময়ও দূর থেকে ভেসে আসে কিন্তু এসব বন্ধ করার জন্য সিস্টেম চেঞ্জ জরুরী সেটা করার জন্য সামর্থ্য এখনো নেই। আর চেঞ্জ করতে হলে আপনাকে আমাকে একই ঈমান নিয়ে শক্ত আঘাত করতে হবে। আর সেটা করা হচ্ছে না। তাই আমিও যেমন সমান অপরাধী তেমনি আপনিও। তবে ইলম আমল ও অন্যান্য কিছুতে উনিশ বিশ পার্থক্য আছে হয়তো।

তো এখন আমিও যদি ভিডিও বানাই বানাই অনলাইনে ছাড়ি কয়দিন পর আমাকেও বলবেন আমার কাছে গেলেই জ্বিন চলে আসবে। আসলে তখন আপনাদের ঈমান নিয়ে আমি খেলবো(আশ্রয় চাই এমন কাজ থেকে, বুঝানোর জন্য বললাম)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সাত + 2 =