বদনজর এবং প্রচলিত কুসংস্কার

ছোট বাচ্চাদের বদনজর থেকে বাঁচানোর জন্য অনেকেই কালো টিপ ব্যবহার করেন। এতে নাকি বাচ্চার নজর লাগে না। অনেকে আবার আঙ্গুল কামড়ে দেন! আবার নজর লাগলে তা কাটানোর জন্য উল্টাপাল্টা কাজ করেন। কেউ কেউ হিন্দুয়ানী প্রথায় টাকা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নজর কাটান। কেউবা মরিচ, পানপাতার দিয়ে। আর অদ্ভুত হলেও সত্য যে, এগুলোতে কাজ হয়। কারন এতে থাকে শয়তানের সাহায্য এবং সূক্ষ্ম ধোঁকা।।

Image may contain: text

এখন প্রশ্ন আসতে পারে আচ্ছা এইগুলো নাকি ভুলভাল পদ্ধতি, তাহলে ওইসব করার পরে বাচ্চার সমস্যা দূর হয় কিভাবে??

আগেই বলেছি এতে শয়তানের সূক্ষ্ম ধোঁকা ও সাহায্য থাকে। শয়তান আপনার ঈমান নিয়ে খেলার চেষ্টা করছে। আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছে…
আপনাকে দিয়ে ভুল কাজ করাতে চাচ্ছে। শয়তান নিজেই সমস্যা সৃষ্টি করছে। আর আপনি যখন তার পছন্দের কাজ করছেন তখন সে আর সমস্যা করছেনা। ফলে আপনি ভাবছেন কাজ যেহেতু হচ্ছে, তাহলে এটাই ঠিক! আর এইভাবেই চলছে মরিচ, পানপাতা আর শয়তানের খেলা। এইবার বুঝলেন তো আপনি যাকে সমাধান ভাবছেন সেইটাই আসলে সমস্যা…

তাই শয়তানের ধোঁকায় না পড়ে কুর’আন সুন্নাহ মেনে চিকিৎসা করুন। শিফার পাশাপাশি সওয়াবও মিলবে ইনশাআল্লাহ।

এবার একটা হাদিস জানা যাক—
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ মন্ত্রপাঠ, তাবিজ/কবচ ও বশ করা শিরক। একথা শুনে (উনার স্ত্রী) যয়নব রা. বলেন: তুমি এ কি বলছ, আল্লাহর শপথ! আমার চোখে ব্যথা হলে আমি একজন ইয়াহূদীর কাছে যেতাম, সে মন্ত্র পাঠের পর আমার চোখে ফু দিলে ব্যথার উপশম হতো। তখন আবদুল্লাহ রা. বলেন, এতো শয়তানের অপকর্ম ছিল, সে নিজেই চোখে ব্যথা দিত, আর যখন ঐ ইয়াহূদী যখন তাতে ফু দিত, তখন সে বিরত থাকতো। তোমার জন্য তা-ই পাঠ করা উচিত ছিল, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। আর তা হলো:
أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
হে মানুষের রব! যন্ত্রণা দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার দেয়া আরোগ্য ব্যতীত কোন আরোগ্য নেই, (এমন আরোগ্য দিন) যার পরে আর কোন রোগ বাকী থাকে না।
[আবু দাউদ:৩৮৪৩]

আবারো মনে করিয়ে দেই, আপনি যে কাজগুলো চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক কিংবা আমল হিসেবে করছেন তার কিন্তু কোন ভিত্তিই নেই। এইটা একধরনের ধোঁকা। যদি থাকতো তাহলে তো কুর’আন, হাদীসের কোথাও না কোথাও তো লিখা থাকতো।
নাহলে কোন গ্রহণযোগ্য বুজুর্গ অন্তত এসব করতে বলতেন। কিন্তু না সেইটাও কেউ বলেন নি।
সুতরাং বোঝা যাচ্ছে এইটাও সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের একটি।।
তাই এইগুলো বাদ দিয়ে নজর লাগলে নিমোক্ত দুয়াগুলো বাচ্চার মাথায় হাত রেখে পড়বেন, আর পড়া শেষ হলে ফুঁ দিবেন—

أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উঈযুকুম বিকালিমাতিল্লাহিত্তাম্মাহ । মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাহ । ওয়ামিন কুল্লি আঈনিন লাম্মাহ ।

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
বিসমিল্লাহি আরকিক মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যিক, ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আউ ‘আঈনি হাসিদিন আল্লাহু ইয়াশফিক । বিসমিল্লাহিল্লাহি আরকিক ।

بِاسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ

বিসমিল্লাহি ইউবরিকা ওয়ামিন কুল্লি দা-ইন ইয়াশফিক ওয়ামিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদা ওয়া শাররি কুল্লি যী ‘আঈন ।

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ، اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
আল্লাহুম্মা রাব্বান নাস আযহিবিল বা’স । ইশফিহি ওয়া আনতাশ শাফি । লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক। শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা ।

আর অবশ্যই প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নোক্ত দুয়াটি বেশ কয়েকবার পড়ে ফুঁ দিবেন____

أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উঈযুকুম বিকালিমাতিল্লাহিত্তাম্মাহ । মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাহ । ওয়ামিন কুল্লি আঈনিন লাম্মাহ ।

সাথে তিনকুলও পড়ে নিবেন। আর যাদের বাচ্চার এই ধরনের সমস্যা বেশি হয় উনারা চাইলে তেল, পানি পড়ে অই পানি দিয়ে গোসল করাতে পারেন, আর তেল ব্যবহার করতে পারেন সাত দিন।।
এতে বেশ ফায়দা হবে ইনশাআল্লাহ আর নিয়মিত মাসনুন আমলগুলো সবসময়ই চালিয়ে যাবেন।

রব্বুল আ’লামীন আমাদের বাচ্চাদেরকে সকল খারাবি থেকে হেফাজত করুন, আর আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। জানার ও মানার তৌফিক দিন। (আমীন)

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = one