ফ্যামিলিতে বদনজর, জ্বিন ও যাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তি থাকলে করনীয়

আমাদের অভিভাবকদের একটা বড় সমস্যা হল তাদের অজ্ঞতা এবং “তুমি আমার থেকে বেশি বোঝো?”- টাইপের মনোভাব। সন্তানের চিন্তায় তারা এতই মশগুল যে কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ, কোনটা আল্লাহর দিকে যাবার পথ আর কোনটা শয়তানের রাস্তা সেটা যাচাই-বাছাই করার কোন আগ্রহ তাদের নেই। সম্ভাব্য কম সময়ে তারা ফলাফল প্রত্যাশী। সেজন্য যেকোনো কিছু করতে তাদের দ্বিধা নেই।
.
সাধারণত একটা বাবু যখন দুনিয়াতে আসে সে সুস্থ হয়েই আসে। কোনো প্যারানরমাল সমস্যা নিয়ে আসে না। আমরা অভিভাবকরা তখন তার কপালে নজর টিপ দেই, গলায়/কোমড়ে তাবিজ লাগিয়ে দেই। এদেশের প্রচুর মা আছেন যারা গর্ভাবস্থাতেই “সুরক্ষার তাবিজ” নামে তাবিজ লাগিয়ে নিজের এবং বাচ্চার বিপদ ডেকে আনেন। এদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা এসব পছন্দ করেন না কিন্তু মা, খালা, শ্বাশুড়ির “তুমি হুজুর থেকে বেশি বোঝো?” টাইপের মনোভাবের কাছে পরাজিত হন।
.
এভাবে অনেক সময় একটা বাবু দুনিয়াতে আসার আগেই তার উপর কুফরী প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুনিয়াতে এসে আর সে কিভাবে কুফরীর অন্ধকার থেকে বের হবে? আল্লাহ তায়ালা যাকে নিজ অনুগ্রহে বের করবেন সে-ই পারবে একমাত্র।
.
বাচ্চা বড় হয় আর শয়তানির শিক্ষা তার মধ্যে বাড়তে থাকে। নামায, মাসনুন আমলে তার অগ্রগতি ০ হলেও নাচ, গানে কিন্তু পারফেক্ট। এরপর যখন দুষ্টুমিতে চরম মাত্রায় যায় আর পড়াশুনায় ল্যাবেন্ডিস হয় তখন শুরু হয় “ভাইয়া রুকইয়াহ দেন। ” অথচ সমাধান তার হাতেই।
দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মধ্যে আছেন এমন কোনো ব্যক্তির হিস্ট্রি যখন শুনি প্রায়ই দেখা যায় পুরো পরিবারে কিছু না কিছু সমস্যা আছে। আর দ্বীন মানার প্রবলনতা কম।
.
স্বাভাবিক তাই না? শয়তান যদি ছোটবেলা থেকেই ভিতরে ঢুকে যায় তাহলে দ্বীন মানবে কি করে? পরিবারের সবাই আক্রান্ত হবার কারণে এখানে ট্রিটমেন্ট জটিল আকার ধারন করে।
.
ধরেন, ৫ জনের ফ্যামিলির সবাই আক্রান্ত। এখন রুকইয়াহ করবে একজন। তিনি যখন রুকইয়াহ করেন তখন শয়তান তার কাছে যেতে পারেন না। অন্যজনের কাছে গিয়ে থাকে খোচাবে। দেখা যাবে সারাদিন কোনো খবর নাই, রুকইয়াহ করতে নিল আর মা ডাক দেয়, বাবা ডাকে, ভাই-বোনরা এসে বিরক্ত করে।
.
এসব ক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরতে হবে। যদি আপনার পরিবারে বদনজর, জিন, জাদুতে আক্রান্ত কেউ থাকে তাহলে আপনি-
.
১। তাকে উৎসাহ দিবেন। “তুমি সঠিক পথে আছো। আল্লাহ তোমাকে হেল্প করবেন। তুমি চাইতে থাকো।” – আপনি ভাবতেও পারবেন না জটিল কঠিন সমস্যার আক্রান্ত হয়ে দিশেহারা বোধকরা ব্যক্তির জন্য এই সাধারণ কথাগুলো কতটা বুস্টারের মত কাজ করবে!
.
২। তার দৈনন্দিক কাজে হেল্প করুন। দরকার হলে আলাদা লোক রাখতে পারেন। রুকইয়াহ শুরু করার প্রথম কয়েকদিন এটা লাগতে পারে। পরে ইন শা আল্লাহ আর লাগবে না।
.
৩। তার রুকইয়াহ পানি রেডি করে দিতে পারেন। যদিও যে অসুস্থ সে করতে পারলে সবচে’ ভাল।
.
৪। সময় সময় খোজ নিবেন অলিভ ওয়েলে মেখেছে কিনা, রুকইয়াহর অডিও শুনেছে কিনা ইত্যাদি।
.
৫। নামাযের ওয়াক্তে নামাযের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন।
.
৬। প্রতি সপ্তাহে তার উন্নতি/অবনতির হিসাব-কিতাব করতে পারেন।
.
৭। জিন, যাদুতে আক্রান্ত হলে রাতে তার সাথে ঘুমুতে পারেন।
.
মোট কথা সে যেন রুকইয়াহ ঠিকমত করে, আল্লাহর হুকুম-আহকাম ঠিকমত মানে, খাওয়া-দাওয়া ঠিকমত করে, ঠিক সময়ে ঘুমায় এসকল দিকে লক্ষ রাখা। তবে সতর্কতার সাথে, সে যেন বিরক্ত না হয়। যেন বলতে না পারেন, “কি সারাদিন রুকইয়াহ রুকইয়াহ করেন, আর কোন কাজ নাই আমার/আপনার?”
.
ঝামেলা হল পরিবারের সবাই সমস্যাগ্রস্থ হলে তখন সাপোর্ট দেয়ার মত কেউ থাকে না। কে কাকে সাপোর্ট দিবে! কথা বলতে গেলেই ঝগড়া লেগে যায়। এসকল ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টার পাশাপাশি সাধ্যমত দান-সদকা আর দুয়া করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা চাইলে অচিরেই কোনো রাস্তা খুলে যাবে।
.
বিঃদ্রঃ
.
১। এসব কথার কোনো রেফারেন্স নেই। অমূলক মনেহলে ফলো করার দরকার নেই।
.
২। দান-সদকা আর দুয়া শুধু শেষোক্ত ক্ষেত্রে নয়। প্রথমোক্ত ক্ষেত্রেও বিশেষ উপকারি ইন শা আল্লাহ।
আল্লাহ ভাল জানেন।

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

পঞ্চাশ − 46 =