শিরকি রুকইয়াহ থেকেও উপকার হয় কেন?

আসসালামু আলাইকুম। মুসলিমরা কুর’আনের সাহায্যে জ্বীন, ভূত ছাড়ায় যেটা আল্লাহর কালাম। তাই জ্বীন ভূত ভিক্টিমকে ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু অন্যান্যধর্মের ধর্মগুরুরা কিভাবে বাইবেল, গীতা পড়ে ভূত ছাড়াতে পারে? যেখানে এই বইগুলো নিজেই গভীর শির্কে পরিপূর্ণ সেগুলো কিভাবে শয়তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হতে পারে?
Answer: “…আওফ ইবনু মালিক আশজাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাহেলী যুগে বিভিন্নমন্ত্র দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করতাম। তাই আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আরয করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এব্যাপারে আপনার কি অভিমত? তিনি বললেন, তোমাদের মন্ত্রগুলো আমার কাছে পেশ করতে থাকবে, যদি তাতে শিরকনা থাকে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। ((সহীহ মুসলিম হাদিস নং ইফাঃ ৫৫৪৪, ইসলামওয়েব ২২০০
প্রথমতঃ বিভিন্ন শয়তানি মন্ত্র আছে যার মাধ্যমে শয়তানদের সন্তুষ্ট করে তাদের সহায়তা নেয়া যায়, এবং এসবের প্রভাব তো অবশ্যই আছে। এরকম কিছু দিয়েও জ্বিন ছাড়ানো যায়।
দ্বিতীয়ঃ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী জ্বিন আছে, বিভিন্ন প্রকারের জ্বিন আছে। কোরআনপড়লে বিভিন্ন প্রকারের জ্বিনদের ওপর বিভিন্ন ইফেক্ট হয়। কেউ দেখে একটামারাত্মক আলো তাকে আঘাত করছে, কেউ দেখে প্রচণ্ড জোড়ে বজ্রপাত হচ্ছে ইত্যাদি। এরকমভাবে, কোরআন এর ইফেক্ট আর অন্যান্য ধর্মের ইফেক্ট এ পার্থক্য আছে।
তৃতীয়তঃ বিভিন্ন ধর্মের জ্বিন আছে। উদাহরণস্বরূপ খৃষ্টান জ্বিন আছে তারা অবশ্যইবাইবেলের কথা শোনে। তাদের সামনে যখন বাইবেল থেকে পড়া হয় কিভাবে ঈসা আ.জ্বিন ছাড়াইছে তখন তারা বিগলিত হয়, চলে যেতে রাজি হয়।
চতুর্থতঃ এসবে শিরক থাকে বিধায়ও শয়তান ধরতে পারে, অর্থাৎ এদের ধরলেই তো শিরকি কবিরাজের কাছে যাবে, শিরক করবে। শয়তান তো এটাই চায় মানুষ শিরক করুক, তখনআরও দাবি করে আমার নামে ছাগল জবাই করা, মুরগি জবাই কর, এই এই জিনিশ দে। এসবগুলোই গাইরুল্লাহর নামে কোরবানির মত শিরক। এসব শিরকে সন্তুষ্ট হলে তারপর শয়তান চলে যায়।
পঞ্চমতঃ এটাও সম্ভব যে, সেই ওঝা কোন জ্বিনের উপাসনা করে, সেই জ্বিন অনেক শক্তিশালী। অতএব, তার সাহায্য নিয়ে ছোট জ্বিনকে তাড়ায়।

Leave a Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।