Ruqyah Support BD

এটাও একটা সম্ভবনা!

Advertisement
কিছু প্রেক্ষাপট সামনে আনা যাক।
১। প্রেম করছে দু’জন মানুষ। বিয়ে করতে চায়। কিন্তু বিয়ের কথা উঠলেই আর এগোয় না। একটা না একটা ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। (ঠিক “প্রেম” করছে এমনও যদি না হয়, নিজেরা পছন্দ করে, বিয়েতে আপত্তি নেই। এমনও হতে পারে।)
২। প্রেম করেছে চুটিয়ে। কোনো সমস্যা হয় নি। বিয়ের পর আর একজন আরেকজনকে সহ্য হচ্ছে না।
৩। পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে। দুজনেই সমানে সমান, সুস্থ। এরপরেও ঠিক ব্যাটে-বলে হচ্ছে না, ঝগড়া লেগেই থাকে। একজন আরেকজনের চেহাড়া দেখলেই অসুস্থতা বোধ করে। কারও কারও “শরীর খারাপ” হয়ে যায়। অথচ অন্যদের সাথে স্বাভাবিক।
৪। একজন আরেকজনের যোগ্য হওয়া স্বত্তেও গন্ডগোল। একজনের ভাল লাগছে না। আরেকজন সংসার করতে চায়, কিন্তু ঝগড়া-ঝাটি করে। অন্যজন্য বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। অথচ তার সঙ্গী/সঙ্গীনি কোন অংশে কম না।
৫। ৪ নং এর বলা ক্ষেত্রে একটু ভিন্নরূপ। এখানে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক নেই। কিন্তু একজন বা উভয়জন পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত। নিজেরা একত্রিত হতে পারে না। কিন্তু এমনিতে সুস্থ।
এখানে কি রুকইয়াহ সংক্রান্ত কিছু আছে? বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনেহবে এখানে রুকইয়াহ সংক্রান্ত কিছু নেই। এটা স্বাভাবিক বা চারিত্রিক সমস্যা, প্রেম করার আযাব, সংসারে অমন টুকটাক ঝগড়া হয়ই- ইত্যাদি ইত্যাদি।
আসলেই কি তাই? এই বিষয়ে দু’চার লাইন লিখি।
আমরা জানি শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করে জাহান্নামী করতে চায়। মানুষ কোনো নেক আমল করুক শয়তান চায় না। পাপাচারে লিপ্ত রাখতে চায়। জ্বিন-জাদুতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও এই সূত্র প্রয়োগ করা যায়।
ধরে নেই, যেকোনো একজনের (বা দুজনেরই) রুকইয়াহ সংক্রান্ত সমস্যা আছে। এখন ১ নং ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি। বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক জায়েজ নয়, বিয়ে জায়েজ। শয়তান কখনই চাইবে না, না-জায়েজ সম্পর্ক জায়েজ সম্পর্কে রূপ নিক। নিলেইতো আর না-জায়েজ থাকবে না। গুনাহ হবে না। কাজেই এখানে বাধা সৃষ্টি করবে, হতে দিবে না।
বাধা দিয়েও বিয়ে আটকাতে পারে নি। এবার বিয়ের পর গণ্ডগোল লাগানোর চেষ্টা করবে/লাগিয়ে রাখবে (২ নং ক্ষেত্রে)। পরিবারের অন্যদের উস্কানি দিতে থাকবে। পরিবারে একটা ঝামেলা পাকিয়ে রাখবে। এমনকি তালাক পর্যন্ত গড়াতে পারে।
৩ নং এ তো স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এখানে কোনো “কিন্তু” আছে।
৪ নং এ দেখা যাচ্ছে বৈধ সম্পর্ক ভাল লাগছে না, অবৈধ সম্পর্ক ভাল লাগছে। আর শয়তান এটাই চায়।
৫ নং এও শয়তানের চাহিদাই পূর্ণ হচ্ছে। বৈধ সম্পর্কের হক্ব নষ্ট করা হচ্ছে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
কাজেই কেউ যখন এই টাইপের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের কাছে পরামর্শ চাইবেন তখন A to Z সব সমস্যা লিখবেন। নাহলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে রুকইয়াহ সমস্যা মনে না হলে কিন্তু পরামর্শ পাবেন না।
আর যারা পরামর্শ দিবেন তাদেরও এটা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা উচিত যে, এটা আসলে রুকইয়াহ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নাকি অন্য কিছু।
দু’টো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবেঃ
১। এমনটা জরুরী না যে, যে পরামর্শ চাইছে সমস্যা তার নয় বরং অপরপক্ষের সমস্যা। (আমার অভিজ্ঞতা হল যেসব মহিলা স্বামীকে দোষারোপ করে পরামর্শ চায়, সেখানে আসলে দোষ পুরোপুরি স্বামীর থাকে না। মহিলা নিজেও রুকইয়াহ সংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্ত। আর আক্রান্ত আচরণ কেমন হয় সেটা যারা ভুক্তভোগী তারা ভাল বলতে পারবেন। সেটা আবার কতদিন সহ্য করতে পারবে সেটাও অপরজনের সহ্য ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। এভাবেই পরিস্থিতি জটিলাকার ধারণ করে।) কাজেই সমস্যার গোড়া চিহ্নিত করার চেষ্টা করতে হবে আর সেভাবেই পরামর্শ দিতে হবে।
২। এই পোস্ট পড়ে কিছু সুযোগ সন্ধানী একটা অজুহাত পাবে যে, আমিতো এমন না। নিশ্চয়ই আমার কিছু হয়েছে। এদের বাংলা ওষুধ দিতে হবে। তাহলে দ্রুত সুস্থ হবে ইংশা আল্লাহ।
(এই পোস্ট পড়ে কারও যদি মনেহয় আমি কোনোরকম সাফাই দেয়ার চেষ্টা করছি তাহলে সেই ভার তার উপর-ই দিলাম। কারও চিন্তার উপরতো আর হাত দিতে পারবো না। যে যার চিন্তা করতেই পারে।)

মন্তব্য করুন