বদনজর দূর করার প্র্যাক্টিক্যাল কিছু গাইড

১ম কেসঃ আব্দুল্লাহর ভাল রেজাল্ট দেখে তার খালা অনেক প্রশংসা করলেন। এরপর থেকে আব্দুল্লাহ আর পড়ালেখাই করতে পারে না।
রুকইয়াহঃ খালাকে বলতে হবে অযু করতে। সেই ব্যবহৃত পানি আব্দুল্লাহর গায়ে ঢেলে দিতে হবে। একবার করলেই সুস্থ হয়ে যাবে ইংশাআল্লাহ।
পরিস্থিতি-১ঃ অযুর পানি নেয়া সম্ভব না। কুরুক্ষেত্রে বেধে যাবে।
সমাধানঃ দাওয়াত দিবে। এরপর হাত ধোয়ার জন্য পানির পাত্র দিবে। এই পানি গায়ে ঢালবে।
পরিস্থিতি-২ঃ লকডাউন। দাওয়াত দেয়া সম্ভব না। আর দিলেও তিনি নিজের প্লেট, হাত বেসিনে ছাড়া ধুবেন না।
সমাধানঃ আব্দুল্লাহ নাবালেগ হলে অথবা আরবি পড়তে না পারলে কেস-২ রুকইয়াহ-২ এর নিয়মে তার উপর রুকইয়াহ করতে হবে। আর যদি আরবি পড়তে পারে কিন্তু নাবালেগ সেক্ষেত্রে কেস-৩ এর রুকইয়াহর নিয়ম অনুসরণ করবে
(সিদ্ধান্তঃ আপনি যদি জানেন কে বদনজর দিয়েছে তাহলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। )
কেস-২ঃ এক বছরের বাচ্চা। হুট করে শরীর খারাপ হয়ে গিয়েছে। খায় না, ঘুমায় না, কান্নাকাটি করে শুধু।
রুকইয়াহ-১ঃ ঘরের সবার অযুর পানি নিয়ে বাচ্চার গায়ে ঢেলে দিবে। এতে করে ঘরের কারও নজর লাগলে কেটে যাবে ইংশাআল্লাহ।
রুকইয়াহ-২ঃ উপরের পদ্ধতিতে আশানুরূপ ফলাফল আসেনি। তাহলে বাচ্চার মাথায় হাত রেখে এই দুয়াগুলো পড়বেন। এবং মাঝেমাঝে বাচ্চার গায়ে ফুঁ দিবেন, এভাবে কয়েকবার করবেন।
১.
أُعِيْذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উ”ঈযুকুম বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মাহ। মিং কুল্লি শাইত্বা-নিও- ওয়াহা-ম্মাহ। ওয়ামিং কুল্লি “আঈনিল্লা-ম্মাহ।
২.
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
বিসমিল্লা-হি আরকীক। মিং কুল্লি শাইয়িই ইউ’যীক। মিং শাররি কুল্লি নাফসিন আও “আইনি হাসিদ। আল্লা-হু ইয়াশফীক। বিসমিল্লা-হি আরকীক।
৩.
بِاسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ
বিসমিল্লা-হি ইউবরীক। ওয়ামিং কুল্লি দা-ঈই ইয়াশফীক। ওয়ামিং শাররি হাসিদিন ইযা- হাসাদ। ওয়া শাররি কুল্লি যী “আঈন ।
৪.
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبْ الْبَاسَ، اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
আল্লা-হুম্মা রাব্বান না-স। আযহিবিল বা’স । ইশফি ওয়াআংতাশ শা-ফী। লা-শিফাআ ইল্লা-শিফাউক। শিফাআল লা-ইউগা-দিরু সাক্বামা-।
এরপর সুরা ফাতিহা এবং আয়াতুল কুরসি ১বার। এবং সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস ৩ বার পড়বেন এরপর বাচ্চাকে ফুঁ দিবেন। চাইলে সুরা ফালাক নাস অনেকবার পুনরাবৃত্তি করতে পারেন, সবধরনের রুকইয়ায় এগুলো বিশেষভাবে উপকারী।
সমস্যা বেশি হলে উল্লেখিত পদ্ধতিতে রুকইয়া করা শেষে, আরেকবার এগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন বাবুকে খাওয়াবে ও গোসল দিবে। সমস্যা ভালো হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন করবেন এই দুটো কাজ। এছাড়া কোন অঙ্গে ব্যাথা থাকলে এসব দোয়া-কালাম পড়ে তেলে ফুঁ দিয়ে প্রতিদিন মালিশ করতে পারবেন।
নোটঃ
  • ধরা যাক, আমাতুল্লাহর বাবা নিজে বদনজরের রুকইয়াহ করতে রাজি না। এক্ষেত্রে আমাতুল্লাহ উপরের নিয়মে বাবার মাথায় হাত রেখে দুয়াগুলো পড়বে। অথবা পড়ে বাবার গায়ে ফু দিবে।
  • কারও যদি অল্প সময় তাকে নিজের জন্য বদনজরের রুকইয়াহ করার তাহলে সে এই পদ্ধতিতে নিজের মাথায়, বুকে হাত রেখে এই দুয়াগুলো পড়বেন।

 

কেস-৩ঃ কেউ যদি নিজের জন্য বদনজরের রুকইয়াহ করতে চায় তাহলে এই পদ্ধতি ফলো করবে। এই পদ্ধতিতে কাজ দুইটি।

১। পিডিএফ তেলাওয়াত করা। না পারলে অডিও শোনা।

২। গোসল করা।

তেলাওয়াতের জন্য পিডিএফ এখানে পাওয়া যাবে( ৫ নং ) ruqyahbd.org/ayat

কেউ কুরআন থেকে তেলাওয়াত করতে চাইলে তার জন্য এই লিংকে আয়াতের লিস্ট আছে।
https://facebook.com/groups/ruqyahbd/permalink/1211775139009803

দিনে ১ থেকে ২ ঘন্টা তেলাওয়াত করা উচিত। না পারলে দুই ঘন্টা অডিও শুনবে। নিচের লিংক থেকে ১ অথবা ২ নং। একদিন ১ নং আরেকদিন ২ নং এভাবেও শোনা যাবে। পিরিয়ডের সময় মেয়েরা অডিও শুনবেন। – ruqyahbd.org/download

গোসলের জন্য এক বালতি পানি নিয়ে বাথরুমের বাইরে আসুন। এরপর দুই হাত পানিতে ডুবিয়ে দিন। এবার দরূদ শরীফ, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস, দরূদ শরীফ- সবগুলো ৭ বার করে, আর রিপিট সবগুলো ৭ বার করে পড়বেন। পড়া শেষ হলে এই পানি নিয়ে বাথরুমে গিয়ে গায়ে ঢালবেন। এরপর ইচ্ছামত গোসল করবেন। কারও উচ্চারণ শুদ্ধ না হলে বা মেয়েদের পিরিয়ড অবস্থায় অন্য কেউ পানি রেডি করে দিতে পারবে।

(সিদ্ধান্তঃ আপনার যদি জানা না থাকে কে বদনজর দিয়েছে/অনেকজনের বদনজর লেগেছে মনেহয়/অনেক পুরনো বদনজরের সমস্যা মনে হয় তাহলে কেস-২ বা কেস-৩ এ বলা পদ্ধতি ফলো করবেন।)

কেস-৪ঃ অনেক সময় পোষা প্রানীর উপর, ব্যবসায়ের মালামালা/দোকানের উপর, চাষাবাদের ফসলের উপর বদনজর লাগে।

রুকইয়াহঃ এখানেও একই কথা যদি আপনি জানতে পারেন কে বদনজরর দিয়েছে (কার বদনজর লেগে গিয়েছে) তাহলে তার অযুর পানি নিয়ে ছিটিয়ে দিবেন। আর জানতে না পারলে/অযুর পানি নেয়া সম্ভব না হলে কেস-২ রুকইয়াহ-২ এর নিয়মে পশু-পাখির গায়ে হাত রেখে দুয়াগুলো পড়বেন অথবা পড়ে খাবারে/মেডিসিনে ফু দিয়ে খাইয়ে দিবেন। জমিতে/ফসলে হলে দুয়াগুলো পড়ে পানিতে ফু দিয়ে ছিটিয়ে দিবেন। আর কেস-৩ ফলো করে নিজের জন্য রুকইয়াহ করবেন।

প্রশ্নঃ কতদিন করতে হবে? – সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত।
প্রশ্নঃ কোনো সমস্যা হবে? – জ্বর, সর্দি, ব্যথা, পেট খারাপ ইত্যাদি টুকটাক অসুস্থতা হতে পারে।

আরও প্রশ্ন যাদের আছে, তারা এই লিংকে দেখেন- ruqyahbd.org/faq

দুয়াগুলোর বড় ফন্টের ছবি এই লিংকের এলবামে দেয়া হল। link—–
লিখেছেন- Ahmmad Robin

Facebook Comments

Default Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty seven − = 17